বেশি বাড়াবাড়ি করলে, জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে, হুঁশিয়ারির সুর দিলীপ ঘোষের গলায়

আমাদের ভারত, ১১ এপ্রিল:বেশি বাড়াবাড়ি করলে রাজ্যের জায়গায় জায়গায় শীতলকুচির মতো ঘটনা আবার হবে। আজ ভোট প্রচারে বেরিয়ে নাম না করে তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্দ্যেশ্যে রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুর শোনা গেল রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের গলায়। বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কমিশনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

শীতলকুচি ঘটনা নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। ওই ঘটনাকে নন্দীগ্রামের মতোই গণহত্যা বলে দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর রবিবারে দিলীপ ঘোষ বলেছেন,”ভয় দেখিয়ে রাজনীতি করার দিন শেষ। ভয়কে উপেক্ষা করেই মানুষ ভোট দিচ্ছেন। ১৭ তারিখ সকালে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিন। বুথে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। কেউ লাল চোখ দেখাতে পারবে না। আমরা আছি। আর যদি বাড়াবাড়ি করে শীতলকুচিতে দেখেছেন কি হয়েছে। জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে।”

দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যকে, গণহত্যার প্ররোচনা বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। তাদের দাবি, এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

রবিবার বিজেপি প্রার্থী পার্নো মিত্রের সমর্থনে বরানগরে জনসভায় দিলীপ ঘোষ বলেন,”তৃণমূলের আমলে মা-বোনেরা বাড়ি থেকে বের হতে পারেন না, মেয়েরা টিউশন পড়তে গেলে চিন্তায় থাকে পরিবার। বাজারে গেলে মা বোনেদের আঁচল ধরে টানাটানি হয়। অভিযোগ করলে দিদি বলেন দুষ্টু ছেলে। এত দুষ্টু ছেলে এলো কোথা থেকে? ওই দুষ্টু ছেলেরাই কাল কোচবিহারে শীতলকুচিতে গুলি খেয়েছে। এই দুষ্টু ছেলেরা বাংলায় আর থাকবে না। সবে শুরু হয়েছে। যারা ভেবেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী বন্দুকটা দেখানোর জন্য নিয়ে এসেছে, তারা বুঝে গিয়েছে ওই গুলির জোর কেমন! সারা বাংলায় এটা দেখতে হবে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজকেই শীতলকুচি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কমিশন নির্দেশ দেয় ৭২ ঘন্টা সেখানে কোনো দলের নেতানেত্রীরা ঢুকতে পারবেন নি। ফলে আজ সেখানে যাননি তৃণমূল সুপ্রিমো। দিলীপ ঘোষ সেই প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “সারা জীবন লাশ নিয়ে রাজনীতি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোচবিহারেও লাশ তুলতে যেতে চেয়েছিলেন। ভেবেছিলেন রাস্তায় লাশ ফেলে বসবেন। বলবেন দেখুন আমার লোকেদের মেরেছে। ভোট দিন। কিন্তু কমিশন ঠিক করেছে। উপদ্রুত এলাকায় কোনও নেতা-নেত্রীকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। যাতে কেউ আগুন জ্বালাতে না পারে। তাই খুব কষ্ট হচ্ছে। শিলিগুড়িতে গিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেছেন। উনি বুঝতে পেরেছেন মানুষ ভোট দেবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *