দিদিমণি বুঝে গেছে এখন ডালপালা ছাঁটা হচ্ছে, এবার গোঁড়ায় কোপ পড়বে, তাই বাঘিনীর আওয়াজ ম্যাঁউ ম্যাঁউ হয়ে গেছে: দিলীপ ঘোষ

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৮ আগস্ট ‘সিবিআই, ইডি ক্যালাইনি, শুধু চা খেতে ডেকেছে, তাতেই পিছন ফুলে গেছে। কোনো ডাক্তারের ওষুধ কাজে হচ্ছে না। দিদিমণি বুঝে গেছে সবে ডাল পালা ছাঁটা হচ্ছে। এবার বোধ হয় গোঁড়ায় কোপ পড়বে। আর তাই বাঘিনীর আওয়াজ আজ ম্যাঁউ ম্যাঁউ হয়ে গেছে। বিড়ালের মত।’ ২১ শে জুলাই কালি ছেটানোর বদলে আলকাতরা লাগাবে বলেছিলেন। সেই আলকাতারও গলে গেছে।” বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর ও বুদবুদের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রীকে এভাবেই আক্রমন করলেন বিজেপি সংসদ তথা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি দিলীপ ঘোষ। একই সঙ্গে গত বিধানসভা নির্বাচনের পর আবার স্বমহিমায় তিনি নিদান দিয়ে বলেন, “যারা বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে শ্মশানে পরিণত করেছে। যারা বাংলারা শিক্ষা ব্যাবস্থা নিয়ে কোটি কোটি টাকা আয়ের ব্যাবসা তৈরী করেছেন। তাদের জুতো পেটা করা উচিত।”

উল্লেখ্য, গত এককমাস ধরে এসএসসি কেলেঙ্কারি, গরু পাচার ও কয়লা পাচার তদন্তে তোলপাড় গোটা রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষমন্ত্রীর বান্ধবীর বাড়ি থেকে কাড়ি কাড়ি টাকা উদ্ধার করেছে ইডি। গ্রেফতার হয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। উদ্ধার হয়েছে কয়েকশো কোটি নগদ টাকা। কয়েক’শো কোটি টাকার সম্পতির হদিশ উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যেই গরু পাচার কান্ডে সিবিআইয়ের জালে গ্রেফতার হয়েছে বীরভূমের জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা বেতাজ বাদশা অনুব্রত মন্ডল। তদন্তে অনুব্রত মন্ডলের পরিবারের একাধিক আত্মীয় ও মেয়ের চাকরি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আর তাতেই জল্পনা আরও জলঘোলা হতে শুরু হয়েছে রাজনীতিতে। আর এসব বেরিয়ে আসতেই কার্যত গত বিধানসভা নির্বাচনের পর ঝিমিয়ে থাকা গেরুয়া শিবির বাড়তি অক্সিজেন পেয়ে ময়দানে নেমেছে।
চোর ধরো জেলে ভরো সহ একাধিক স্লোগানকে সামনে রেখে মিছিল মিটিং শুরু করেছে।

সম্প্রতি আসানসোল পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডে উপনির্বাচন। গত দুদিন তার প্রচারে শিল্পাঞ্চলে এসেছেন বিজেপি সংসদ তথা বিজেপির সর্ব ভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের মামড়া বাজারে চা চক্রে যোগ দেন তিনি। সেখান থেকে বুদবুদে একটি পথসভায় যোগ দেন। চা চক্রের পর সেখানে পথসভায় স্বমহিমায় বক্তব্য রাখেন। সম্প্রতি তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় পিঠের চামড়া তুলে জুতো করার তোপ দেগেছিলেন। তার পাল্টা জবাবে এদিন দিলীপবাবু বলেন, “একজন সাংসদ। বুড়ো নয়। বাংলার অধ্যাপক। তিনি এধরনের ভাষায় কথা বলছেন। বাংলা অধ্যাপকের এই নমুনা।” তিনি সৌগত রায়কে নিশানা করে আরও বলেন, “আপনি সাবধানে থাকুন। একদিন হয়তো আপনার পিঠের ছাল, কোমরের কাপড় কিছুই থাকবে না। সবে শুরু হয়েছে।” তিনি নিদান দিয়ে আরও বলেন,’ যারা বাংলার শিক্ষা ব্যাবস্থাকে শ্মশানে পরিণত করেছে, যারা বাংলার শিক্ষা ব্যাবস্থা নিয়ে কোটি কোটি টাকা আয়ের ব্যাবসা তৈরী করেছেন। তাদের জুতো পেটা করা উচিত।”

বিজেপি ওয়াসিং মেশিন বলে তৃণমূলের কটাক্ষ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিজেপি ওয়াসিং মেশিন কি না জানি না। তবে তৃণমূল আবর্জনার স্তুপ। ওই দিয়ে গাড়ি চলবে না।” সারদা নারদা কান্ডে বিজেপি নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা কাউকে ক্লিনচিট দিইনি। কাউকে রক্ষা করব না। আদালতের ওপর ভরসা আছে। ভারতের সংবিধানের ওপর ভরসা আছে। তবে রাজ্যের মানুষের পুলিশের ওপর ভরসা নেই। এমনকি আদালতেরও ভরসা নেই। তাই সব কেলেঙ্কারিতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিচ্ছেন।” অনুব্রত মন্ডল গ্রেফতার হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কটাক্ষ করে দিলীপবাবু বলেন, “রাজ্যের বাঘা বাঘা ৮ জন আইপিএস দিল্লির শ্বশুর বাড়ির সিবিআইয়ের ডাক পেয়েছেন। হয়তো প্যারেড শুরু হয়ে গেছে। কেষ্ট মন্ডলকে সিবিআই ক্যালাইনি। শুধু চা খেতে ডেকেছে। তাতেই পিছনটা কমলালেবুর মত ফুলে গেছে। কোনো ডাক্তারের ওষুধে কাজ হচ্ছে না। আর ২১ জুলাইয়ের বাঘিনীর আওয়াজটা আজ ম্যাঁউ ম্যাঁউ হয়ে গেছে বিড়ালের মতো।”

এদিন তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন তৃণমূলকেও কটাক্ষ করেছেন। তিনি আরও বলেন,”দিদিমণি বুঝে গেছে সবে ডাল পালা ছাঁটা হচ্ছে। এবার বোধ হয় গোড়ায় কোপ পড়বে। আর তাই তিনি বলছেন আমার বাড়িতে ইডি আসলে আপনারা পথে নামবেন তো? সেদিন কালি ছেটানোর বদলে আলকাতরা লাগাবে বলেছিলেন তিনি। সেই আলকাতরাও আজ গরমে গলে গেছে। দিদিমণির সঙ্গে কেউ যাবে? যে যুবকরা আপনার মিটিংয়ে যেত। এখন আর তার যাবে না। সকাল হলে তারা যখন দেখছে, যাদের তাবেদারি করে নেতা করেছি, তাদের বাড়ি থেকে কাড়ি কাড়ি টাকা বেরোচ্ছে।

কেন্দ্রের পাঠানো টাকা জালিয়াতি করে নেতাদের পকেট ভর্তি হয়েছে। যেভাবে ধরা পড়ছে। তাতে তৃণমূলের সব নেতা জেলে থাকবে। জেলের মধ্যে কোর কমিটির মিটিং করতে হবে আপনাকে।” তিনি আরও বলেন, “ভোট চাইতে আসিনি। যার ওপর ভরসা আছে, তাকে ভোট দিন। তবে তৃণমূলকে ভোট নয়। তৃণমূল বাংলার সংস্কৃতি শিক্ষা ব্যাবস্থাকে শ্মশানে পরিণত করেছে। গত বিধানসভার আগে পাড়ায় পাড়ায় বলতে এসেছিলাম। মানুষকে সচেতন করেছিলাম। আমরা কেষ্টর বাংলা, পার্থর বাংলা চাইনি। আমরা বিবেকানন্দের বাংলা, বাঘাযতীনের বাংলা চাই।

মানুষ সেদিন মানতে চায়নি। সেদিন যেটা বলেছিলাম আজ সেটা বাস্তবে হচ্ছে। তাই মানুষের জানতে ইচ্ছা করছে। তাই জানাতে এসেছি। সিপিএম উঠে গেছে। কংগ্রেসের স্যালাইন চলছে। মানুষ চিন্তাশীল। বাংলার মানুষ ঠিক বুঝতে পারছেন।” 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *