মাথায় অক্সিজেন না যেতেই গরু, কয়লা ও বালি পাচারে যুক্ত অনুব্রত, যদি অক্সিজেন যেত তবে গঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরকেও বেচে দিত: লকেট চট্টোপাধ্যায়

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৮ আগস্ট: ‘চোরের মা’য়ের বড় গলা। তৃণমূলের ছোটো থেকে বড় সবাই তোলাবাজ। ১৭ কোটি টাকা উদ্ধার ছোট খাটো তৃণমূলের পাঞ্চায়েত নেতাদের কাছে। তোলবাজ তৃণমূল নেতাদের চরিত্রের মুখোশ খুলে শাস্তি চাইছে মানুষ।’ বৃহস্পতিবার বুদবুদে বিজেপির ডেপুটেশন কর্মসূচিতে এসে তৃণমূলকে এভাবেই আক্রমন করলেন বিজেপি সংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। 

উল্লেখ্য, গত এককমাস ধরে এসএসসি কেলেঙ্কারি, গরু পাচার ও কয়লা পাচার তদন্তে তোলপাড় গোটা রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষমন্ত্রীর বান্ধবীর বাড়ি থেকে কাড়ি কাড়ি টাকা উদ্ধার করেছে ইডি। গ্রেফতার হয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। উদ্ধার হয়েছে কয়েক’শো কোটি নগদ টাকা। কয়েক’শো কোটি টাকার সম্পতির হদিশ উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যেই গরু পাচার কান্ডে সিবিআইয়ের জালে গ্রেফতার হয়েছে বীরভূমের জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা বেতাজ বাদশা অনুব্রত মন্ডল। তদন্তে অনুব্রত মন্ডলের পরিবারের একাধিক আত্মীয় ও মেয়ের চাকরি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আর তাতেই জল্পনা আরও জলঘোলা হতে শুরু করেছে রাজ্য রাজনীতিতে। আর এসব বেরিয়ে আসতেই কার্যত গত বিধানসভা নির্বাচনের পর ঝিমিয়ে থাকা গেরুয়া শিবির বাড়তি অক্সিজেন পেয়ে ময়দানে নেমেছে। চোর ধরো জেলে ভরো সহ একাধিক স্লোগানকে সামনে রেখে মিছিল মিটিং শুরু করেছে।

সম্প্রতি আসানসোল পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডে উপনির্বাচন। বৃহস্পতিবার দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে যাওয়ার পথে বুদবুদে বিজেপির বিডিওর কাছে ডেপুটেশন কর্মসূচিতে যোগ দেন বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। এদিন তিনি তার বক্তব্যে আগাগোড়া তৃণমূলের দুর্নীতি কেলেঙ্কারি নিয়ে কড়া আক্রমন করেন। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুব্রত প্রসঙ্গে মন্তব্য ও ইডি অভিযানের প্রতিবাদে দলীয় কর্মী সমর্থকদের আন্দোলনের নামার বার্তার কড়া নিন্দা করে তিনি বলেন, “চোরের মায়ের বড় গলা। চোরেদের বাঁচাতে আবার অন্য চোরেদের আন্দোলনে নামাচ্ছে। মানুষ বুঝতে পেরেছে। তৃণমূলের ছোটো থেকে বড় সবাই তোলাবাজ। ১৭ কোটি টাকা ছোট খাটো তৃণমূলের পাঞ্চায়েত নেতাদের আছে। তোলবাজ তৃণমূল নেতাদের চরিত্রের মুখোশ খুলে শাস্তি চাইছে মানুষ।” তিনি আরও বলেন,
“বাংলা তার নিজের মেয়েকে চাই বলে যেভাবে ভোট নিয়েছে তৃণমূল। এটা তারই প্রতিফলন। তৃণমূলের সব নেতার তার নিজের মেয়েকে দুর্নিতি করে টেট পরীক্ষা না দিয়ে চাকরিতে ঢুকিয়েছে। আর প্রকৃত চাকরি প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন,” অনুব্রত মন্ডলের মেয়ে নিজেও জানে না সে কোন স্কুলে চাকরি করে। অথচ সে মাইনে পাচ্ছে। যে স্কুলে চাকরি করে, সেখানের পড়ুয়ারা জানে না অনুব্রত মন্ডলের মেয়ে সেখানের শিক্ষিকা।

তৃণমূলের এই সমস্ত প্রভাবশালির টাকা কালিঘাট পর্যন্ত গেছে। এইসব তোলাবাজদের চরিত্রের মুখোশ খুলে প্রকাশ্য আনতে চাইছে মানুষ। তাদের শাস্তি চাইছে মানুষ।” এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “পুরোনো বোতলে নতুন সুরা। এসএসসি কেলেঙ্কারীর দুর্নীতি প্রমাণিত। তাই মানুষের নজর ঘোরাতে নতুন তৃণমূলের প্রকাশ করতে চাইছে।”

তিনি আরও বলেন, “অনুব্রত মন্ডলের মাথায় নাকি অক্সিজেন যায় না। তাতেই গরু পাচার, কয়লা পচার ও বালি পাচারে যুক্ত। যদি অক্সিজেন মাথায় যেত তবে গঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরকেও বেচে দিত।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *