আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ২ জুন: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের পাথরপ্রতিমা ব্লক ঘূর্ণিঝড় যসের প্রভাবে যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বুধবার সেই পাথরপ্রতিমার বিস্তীর্ণ এলাকা ঘুরে দেখলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ হেলিকাপ্টারে তিনি এসে পৌঁছান পাথরপ্রতিমার রামগঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ মাহেন্দ্রপুর শিবপ্রসাদ ভাগবৎচন্দ্র হাইস্কুলে। সেখান থেকে গাড়িতে চেপে ধ্রুব বাজারের ফ্লাড সেন্টার পরদর্শন করেন। কথা বলেন দূর্গত মানুষদের সঙ্গে। সেখান থেকে বেশ কিছু মানুষকে ত্রান সামগ্রী বিলিও করেন অভিষেক। দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এরপর লঞ্চে চেপে পাথরপ্রতিমার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
এদিন অভিষেকের সাথে ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সভাধিপতি সামিমা সেখ, সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম চন্দ্র হাজরা, পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমির জানা, জেলার যুব তৃণমূলের সভাপতি সওকত মোল্লা সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। গোপালনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দুর্গত স্থান লঞ্চে করে পরিদর্শন করেন অভিষেক। এই বিধানসভার ১৫ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ১৩ টিই নদীমাতৃক। যসের প্রভাবে এই এলাকার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মূলত বসতবাড়ি, চাষের জমি, মাছেড় ভেড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিন লঞ্চে করে এলাকা পরিদর্শনের সময়, জেলার বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের সাথে কথা বলেন অভিষেক। দ্রুত যাতে বাঁধ মেরামতি করা যায় সেই বার্তা দেন। পাশাপাশি নদী বাঁধের স্থায়ী সমাধান কিভাবে করা যায় সে বিষয়েও আলোচনা করেন। পাশাপাশি আমফান দুর্নীতি বা বুলবুল দুর্নীতির মতো যেন সমস্যা না হয় সাধারণ মানুষের সে বিষয়ে কড়া বার্তা দেন সকলকে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যেন ক্ষতিপূরণ পান সে বিষয়ে নজর রাখতে বলেছেন তিনি। পাশাপাশি দুয়ারে ত্রান পৌঁছে দেওয়ার কথাও বলেন অভিষেক। অভিষেক ব্যানার্জির এই সফরকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর ব্যবস্থা করা হয়েছিল এদিন। এদিন এলাকা পরিদর্শন শেষে কেন্দ্রকে আবারও কটাক্ষ করেন অভিষেক। আলাপন ইস্যু থেকে শুরু করে করোনা সংক্রমণ ও যস মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের উদাসীনতার কড়া সমালোচনা করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।

