আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৬ মে:
বীরভূমের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি সতীপীঠ, তবে এর পাশাপাশি রয়েছে সিদ্ধপীঠ তারাপীঠ মা তারার মন্দির। সাধক বামদেবের এই তীর্থভূমিতে প্রত্যেক দিন হাজার হাজার পর্যটকদের সমাগম ঘটে। আর এই দিন ফলহারিণী আমাবস্যা উপলক্ষে পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুন। এইদিন সকাল থেকেই তারাপীঠে সাজ সাজ রব। ফল দিয়ে তারা মায়ের আরাধনা করছেন ভক্তরা। প্রত্যেক ভক্তের একটাই প্রার্থনা, ‘মা তুমি আমার কুফল নিয়ে সুফল দাও।’
বছরের আর পাঁচটি অমাবস্যার মতন এই তিথিরও বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। কথিত আছে, এইদিন স্বয়ং দেবী ভক্তের মনস্কামনা পূরণ করার জন্য ধরাধামে অবতীর্ণ হন। যদিও ভক্তের চোখে তিনি সদা বিরাজমানা। ফলহারিণী অমাবস্যায় বিশেষ নিয়ম মানলে সুখ- শান্তি আসে জীবনে। এই দিন সকালবেলা থেকেই ভক্তরা পাঁচ রকম ফল, ৫ রকম মিষ্টি নিয়ে মা তারার পুজো দিতে হাজির হয়েছেন। মা তারাকে সন্ধ্যা বেলায় ফলের মালা পরিয়ে বিশেষ আরতির আয়োজন করা হয় প্রত্যেক বছর। এ বছরও তার অন্যথা হবে না।
সকাল থেকেই তারাপীঠ মন্দির চত্বর ‘জয় মা তারা, জয় মা তারা’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে। এই অমাবস্যা তিথিতে মা তারাকে দু’বার অন্নভোগ দেওয়া হয়। বিশেষ তিথিতে দুপুরে মা তারাকে বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয়। পাঁচ রকমের ভাজা, পাঁচ রকমের মিষ্টি, সবজি, সাদা ভাত, পোলাও শোল মাছের মাথা দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়। পাশাপাশি বলির পাঁঠার মাংসও মা তারার উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়। সন্ধ্যাবেলায় মা তারাকে আবার নতুন সাজে সাজিয়ে সন্ধ্যারতি করা হয়, নিবেদন করা হয় শীতল ভোগ।
তারাপীঠ মন্দিরের এক প্রবীণ সেবাইত গোলক মহারাজ জানান, “অমাবস্যা তিথি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মা তারাকে স্নান করিয়ে ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে মন্দিরের দরজা। বেলা যত গড়িয়েছে ভক্ত সমাগম আরও বেড়েছে। মা তারাকে এদিন বিশেষ ফল দিয়ে পুজো করেন ভক্তরা। মা তারাকে সাজানো হয় ফল দিয়েই। যতক্ষণ তারাপীঠ মন্দিরে ভক্ত থাকবে, ততক্ষণ মন্দির খোলা রাখা হবে। কোনও ভক্তকেই আজ মায়ের দর্শন না করে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না।” ভক্তদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে মন্দির কমিটির তরফ থেকে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

