দেউচা- পাঁচামির সিন্দুরে মেঘ সিঁদুলিতে, অন্ডালে পুনর্বাসনের দাবিতে কোলিয়ারিতে বিক্ষোভ 

জয় লাহা, দুর্গাপুর,২৯ ডিসেম্বর: খনি সম্প্রসারনে বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কায় গ্রাম। আর তাই পুনরবাসনের দাবিতে কোলিয়ারিতে বিক্ষোভ দেখাল গ্রামবাসীরা। বৃহস্পতিবারের ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়াল ইসিএলের কেন্দা এরিয়ার সিঁদুলি কোলিয়ারিতে। 

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রক ইসিএলের কেন্দা এরিয়ার সিঁদুলি কোলিয়ারি সম্প্রসারিত প্রজেক্টের করার জন্য অনুমোদন দেয়। জানাগেছে, ২৩ বছরে প্রায় ২৬ মিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদিত হবে ওই প্রজেক্টে। খোলামুখ ও ভূগর্ভস্ত খনি হবে। তার জন্য প্রায় ২৫৪ হেক্টর জমির প্রয়োজন। যার মধ্যে ১২৪ হেক্টর জমি ইসিএলের রয়েছে। কিছু খাস জমি রয়েছে। এছাড়াও আর জমি প্রয়োজন। ইসিএল সুত্রে জানা গেছে, প্রজেক্টের মূল কাজ এখনও শুরু হয়নি। তবে প্রাথমিক ভাবে সিঁদুলির ভুগর্ভস্থ খনির ড্রাইভের জন্য জায়গা তৈরীর কাজ শুরু হয়েছে। তাতে ইসিএলের একটি স্টেডিয়াম ভাঙ্গার কাজ শুরু হয়েছে। ওই কাজ করছে একটি বেসরকারি সংস্থা।

ওই খনি সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে সিঁদুলি গ্রাম। প্রায় ১৫ হাজার বাসিন্দা রয়েছে গ্রামে। রয়েছে স্কুল। খেলার জন্য স্টেডিয়াম। খনির সম্প্রসারণের জন্য ভাঙ্গা হচ্ছে সিঁদুলি স্টেডিয়াম মাঠ। কেটে ফেলা হচ্ছে কয়েক হাজার গাছ। ভূগর্ভস্থ খনিতে ক্রমাগত ব্লাস্টিংয়ের ফলে এলাকার বহু ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ। যার ফলে আতঙ্কিত বাসিন্দারা। আতঙ্কিত বাসিন্দারা পূনর্বাসনের দাবিতে সরব হয়েছেন। গ্রামের স্বার্থে তৈরি হয়েছে “সিঁদুলি গ্রাম বাঁচাও কমিটি”। বৃহস্পতিবার কমিটির পক্ষ থেকে বিক্ষোভ দেখানো হয় সিঁদুলি কোলিয়ারি এজেন্ট অফিসে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, “খনির সম্প্রসারণের জন্য ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে সিঁদুলি স্টেডিয়াম। এটি এলাকার একমাত্র খেলার মাঠ। এছাড়াও চলছে গাছ কাটা। ক্রমাগত ব্লাস্টিং বিপন্ন হয়ে পড়েছে গোটা গ্রাম। গ্রামবাসীদের ক্ষতিপূরণের কোনও আলোচনা না করেই সম্প্রসারনের কাজ শুরু করেছে।” গ্রামবাসীদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে খনি কর্তৃপক্ষ সম্প্রসারনের কাজ শুরু করছে বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের।

খান্দরা পঞ্চায়েত প্রধান শ্যামলেন্দু অধিকারী জানান,
“খনির সম্প্রসারণে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ও গ্রামবাসীদের না জানিয়ে কর্তৃপক্ষ যেভাবে কাজ করছে সেটা অনুচিত। পুনর্বাসন, নতুন খেলার মাঠ, খনি সম্প্রসারণের কাজে স্থানীয়দের নিয়োগ, পানীয় জল, এলাকায় বিনামূল্যে বিদ্যুতের ব্যবস্থা, আলো লাগানো সহ ১৪ দফা দাবিতে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে।”  দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও জানিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে জীবন-জীবীকার তাগিদে বীরভূমের দেউচা পাঁচামীতে রাজ্যের প্রস্তাবিত কয়লাখনি এলাকায় আদিবাসীদের লাগাতার বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকে ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। তারপর এদিনের বিক্ষোভে প্রশ্ন উঠছে, বীরভূমের পাঁচামীর সিঁন্দুরে মেঘ দেখা দিল সিঁদুলিতে? প্রায় দু ঘন্টা ধরে চলে বিক্ষোভ। শেষে কোলিয়ারির আধিকারিকের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেয়। বিক্ষোভকারীরা।

সিঁদুলি কোলিয়ারির আধিকারিক রাজেন্দ্র কিশোর প্রসাদ সিং জানান,” জাতীয় স্বার্থে কয়লা উত্তোলনের জন্য খনি প্রয়োজন। ২০১৮ সালে প্রজেক্টের অনুমোদন হয়েছে। নতুন ওই প্রজেক্টে দৈনিক দেড় হাজার থেকে দু’হাজার টন কয়লা উৎপাদিত হবে। 

সম্প্রসারনের কাজ এখনও শুরু হয়নি। নিয়ম মেনে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে আলোচনা করে ক্ষতিপূরণ পাবে৷ বন দফতরের নিয়ম মেনে গাছ কাটা ও লাগানো হবে। গ্রামবাসীদের দাবিসহ স্মারকলিপি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।”  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *