সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৫ জুন: গরু পাচারের দায়ে অভিযুক্তদের মুক্তি চেয়ে থানায় হামলায় ধৃতদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল বাঁকুড়া আদালত। গত বৃহস্পতিবার সকালে গরু পাচারকারি সন্দেহে বড়জোড়া থানার পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করে। ওই ৩ জন একটি টাটা এসি গাড়িতে করে ৭ টি গরু নিয়ে যাওয়ার সময় মালিয়াড়া- মেটালি রাস্তায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। তারা গরুগুলির বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে ৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
বড়জোড়া থানার গুড়ুরবাঁধ গ্রামের অভিযুক্ত রাজেশ শেখ, আনারুল মল্লিক ও হাট আশুড়িয়া গ্রামের বিশ্বজিৎ ধীবরকে রিমান্ডে এনে তদন্ত শুরু করে। এই খবরে শুক্রবার গুড়ুরবাঁধ গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা বড়জোড়া থানায় এসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাদের দাবি মিথ্যা অভিযোগ এনে পুলিশ তাদের ফাঁসিয়েছে। ধৃত ৩ জনই নির্দোষ। পুলিশের কাছে তারা দাবি করতে থাকে ধৃতদের ছেড়ে দিতে হবে। পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে বোঝাতে থাকে ধৃত আসামিদের কোর্ট পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছেন। গরু চোরাচালান নিয়ে তাদের কাছে কোনো গোপন সুত্র রয়েছে কিনা তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। কিন্তু বিক্ষোভকারিরা কোনো কথাই শুনতে চায়নি। একসময় তারা আসামিদের জোর করে ছিনতাই করারও চেষ্টা করে, পুলিশ সূত্রে এমনই অভিযোগ। পুলিশের সঙ্গে বচসা চলতে চলতে আচমকা থানায় ভাঙ্গচুর এবং পুলিশ কর্মীদের মারধরও করে বলে অভিযোগ। একসময় পুলিশ জনতা খন্ড যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। মুহূর্তে ধুন্দুমার কান্ড বেঁধে যায় থানা চত্বরে। প্রত্যেকের বাড়ি গুড়ুরবাঁধ গ্রামে। শনিবার তাদের বাঁকুড়া কোর্টে তোলা হয়। বিচারক সকলকেই ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে এদিনের ঘটনায় ধৃতরা হল আয়নাল মিদ্দ্যা, বাহার
আলী মিদ্দ্যা, সোহেল মিদ্দ্যা ওরফে আব্দুল আলীম, আবেদ আলি শেখ, লুদেজা বিবি ও রসবা বিবি ওরফে রসবা মোল্লা। এদের প্রত্যেকের বাড়ি গুড়ুরবাঁধে। তাদের সকলকে গ্রেফতার করা হয়।
এইনিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়ে গিয়েছে। বড়জোড়ার বিজেপি নেতা সোমনাথ কর বলেন, গোটা রাজ্যে যেমন আইনের শাসন নেই বড়জোড়া তার ব্যতিক্রম নয়। পুলিশের কোনো কন্ট্রোল নেই। তাই মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নিচ্ছে।
সিপিআইএমের বড়জোড়া এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুজয় চৌধুরী বলেন, আমরা চাই এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রেখে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। পুলিশি তদন্তে এমন কেউ যেন শাস্তি না পায় যিনি
নির্দোষ।
অন্যদিকে বড়জোড়ার বিধায়ক তথা বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অলক মুখার্জি বলেন, সিপিএম বিজেপি এই ঘটনাকে নিয়ে রাজনীতি করছে। তৃণমূল আইনের শাসনে বিশ্বাসী। তাই আইন আইনের পথেই চলুক এখানে দল কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

