আমাদের ভারত, ২৮ নভেম্বর: কংগ্রেস বনাম তৃণমূলের সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বিজেপির বিরোধী ঐক্যে কি আদৌ এই দুই দল একসাথে থাকবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূল ও কংগ্রেসের সম্পর্কে চিড় ধরা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক মহলে। এরইমধ্যে তৃণমূলের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন দলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, সংসদের ভিতরে বিরোধীদের ইস্যুভিত্তিক সমন্বয় থাকবে। কিন্তু তৃণমূল আর পাঁচটা দলের মতো কংগ্রেসের জোটসঙ্গী নয়, তাই কিছুটা পার্থক্য তাদের ক্ষেত্রে থাকবেই।
সংসদের বাইরে যতই বিভেদ থাক, সংসদের ভিতরে কংগ্রেসের সঙ্গে সমন্বয় করেই এগোচ্ছিল তৃণমূল। আগামী শীতকালীন অধিবেশনে সেটা আদৌ টিকে থাকবে কিনা তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল। কারণ কংগ্রেসের ডাকা বৈঠকে তৃণমূল হাজির থাকবে না বলেই জানা গেছে। সোমবারই রাজ্যসভায় কংগ্রেসের দলনেতা মল্লিকার্জুন খারগে সব বিরোধী দলকে নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন। সেই বৈঠকে গরহাজির থাকছে তৃণমূল।
কেন কংগ্রেসের বৈঠকে থাকবেন না তৃনমূল? তা স্পষ্ট করেছে ডেরেক ও’ব্রায়েন। টুইটারে তিনি লিখেছেন, “একটা বিষয় নজর রাখতে হবে, আরজেডি, ডিএমকে, সিপিআই, সিপিআইএম এরা সকলেই কংগ্রেসের জোট সঙ্গী। এনসিপি, শিবসেনা এবং ঝাড়খন্ড জনমুক্তি মোর্চা কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে সরকার চালায়। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস কারোর জোটসঙ্গী নয়। আমরা কংগ্রেসের সঙ্গে সরকারও চালাই না। এটাই হলো এই দলগুলির সঙ্গে আমাদের পার্থক্য।”
তবে কংগ্রেসের সঙ্গে সংসদের ভেতরে ইস্যুভিত্তিক সমন্বয় যে তাদের থাকবে সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। ডেরেক জানিয়েছেন, সংসদের ভিতরে বিরোধী ঐক্য থাকবে। কমন ইস্যু নিয়ে যখন কথা হবে তখন সেই ঐক্য থাকবে।
অর্থাৎ ডেরেকের কথায় স্পষ্ট, বিজেপি বিরোধিতার জন্য সংসদে সমন্বয় থাকলেও কংগ্রেসের ডাকা বৈঠকে উপস্থিত থাকতে তৃণমূল বাধ্য নয়। সূত্রের খবর, কংগ্রেসের ডাকা বৈঠকের তৃণমূলের অনুপস্থিতির খবর পেয়ে কিছুটা হলেও বিচলিত হয়েছেন সোনিয়া গান্ধী। উপযুক্ত পদক্ষেপ করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি মল্লিকার্জুন খারগেকে। কিন্তু অন্যদিকে কংগ্রেসের একাংশ তৃণমূলের সঙ্গে থাকতে চায় না বলেও খবর।

