আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ২৯ মে: হোটেল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বৈধ কাজের বিনিময়ে মোটা টাকা লেনদেনের অভিযোগ পেয়ে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের দফতরে ঢুকে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন বীরভূমের রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা। এমনকি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটকে আঙ্গুল উঁচিয়ে ধমক দেন বিজেপি বিধায়ক।
শুক্রবার রামপুরহাট মহকুমা শাসকের দফতরে যান রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা। বিধায়ককে কাছে পেয়ে সেখানে কর্মরত ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সুশান্ত কুমার মাইতির বিরুদ্ধে টাকা নেওয়া ও অসহযোগিতার অভিযোগ করেন তারাপীঠ এলাকার দুই হোটেল ব্যবসায়ী। হোটেল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সুশান্ত কুমার মাইতির দফতরে যান বিধায়ক ধ্রুব সাহা। সেই সময় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডায় উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। শুধু হোটেল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই নয়, ধ্রুব সাহার দাবি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এলাকার পাথর খাদান মালিকের কাছ থেকেও ঘুষের টাকা নিয়েছেন। ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মুখের উপর অভিযোগ অস্বীকার করলে তাঁকে ধমক দিতে শুরু করেন ধ্রুব সাহা। এমনকি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটকে জেলে ঢোকানোরও হুমকি দেন বিজেপি বিধায়ক।

ধ্রুব সাহা বলেন, “ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যই বাংলার মানুষ বিজেপিকে ব্যাপক সমর্থন জানিয়েছেন। আমরা কোনো অফিসারকে দুর্নীতি করতে দেব না। সরকার চায় দুর্নীতি মুক্ত বাংলা। আর এই সমস্ত অফিসার ঘুষ খেয়ে সরকারের বদনাম করতে চাইছে। আমরা উনার বিরুদ্ধে যথাযোগ্য জায়গায় অভিযোগ জমা দেব।”
বিধায়কের ধমক খেয়ে ভেঙে পড়েন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সুশান্ত কুমার মাইতি। তিনি বলেন, “ওই হোটেল ব্যবসায়ীকে সরাই লাইসেন্স করার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। উনি নোটিশ পেয়ে কিছু কাগজ জমা দিয়েছিলেন। সব কাগজ জমা দিতে পারেননি। এরপর উনাকে বলা হয়েছিল যতদিন সরাই, লাইসেন্স না হচ্ছে ততদিন হোটেল বন্ধ রাখুন। কোনরকম ঘুষ নেওয়া হয়নি।”

