সুব্রত চ্যাটার্জিকে বিজেপিতে ফিরিয়ে আনার দাবি ক্রমশই জোরালো হচ্ছে মুরলীধর সেন লেনজুড়ে

নীল বণিক, আামাদের ভারত, কলকাতা, ৩ মে: নির্বাচনে বিজেপির ফল খারাপ হতেই সুব্রত চট্টোপাধ্যায়কে দলে ফিরিয়ে আনার দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। রাজ্য বিজেপির পুরনো কর্মীরা সুব্রত চ্যাটার্জিকে দলে ফিরিয়ে আনার জন্য সরব হয়েছেন। কেউ আাবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাক্তন সাংগঠনিককে ফিরিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব হঠাৎ সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) সুব্রত চ্যাটার্জিকে সরিয়ে দেয়। তার জায়গায় নিয়ে আসে অমিতাভ চক্রবর্তীকে। দলের একাংশ বলছে, রাজ্যের সংগঠনকে পুরোপুরি হাতে নিতেই এমন কাজ করেছে দিল্লি। দিলীপ ঘোষের সময় থেকেই সুব্রত চ্যাটার্জি গোটা রাজ্যের বিজেপি সংগঠন দেখছিলেন। সংগঠনকে একটা নিয়মের মধ্যে আনতে পেরেছিলেন তিনি। যার ফল হাতেনাতে পেয়েছিল রাজ্য বিজেপি।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দিলীপ ঘোষ ও সুব্রত চ্যাটার্জি জুটি বিজেপিকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিয়েছিল। তার পরেও কন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই জুটি ভাঙে। সুব্রত চ্যাটার্জিকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে উঠে এসেছিল স্বজনপোষণ নীতি। সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের অনুগামীরা তলে তলে স্বজনপোষণ চালাচ্ছে দিল্লির কাছে এমন অভিযোগ জমা পড়েছিল। কিন্তু সেই অভিযোগ কতটা সত্যি তা দিল্লি কেন খতিয়ে দেখেনি, সে প্রশ্নও তুলতে শুরু করছেন দলের একাংশ।

জুটি ভাঙার সময় অবশ্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে না করেছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দলের রাজ্য সভাপতির কথা শোনেননি। উল্টে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার জন্য দিলীপ ঘোষকে চাপ দিয়েছিল দিল্লি। শাখা সংগঠনের থেকেও সুব্রত চ্যাটার্জির কয়েকজন ঘনিষ্ঠকে সরিয়ে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাদের জায়গায় নবাগতদের নিয়ে এসে বাংলার লড়াইয়ে শামিল হয়েছিল দিল্লি।

দলের একাংশ বলছেন, অমিতাভ চক্রবর্তী কখনোই সুব্রত চ্যাটার্জির বিকল্প ছিল না। দলের সাংগঠনিক নেতাদের উপর কখনই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি অমিতাভ চক্রবর্তী। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে বলে মত আদি বিজেপি নেতাদের। হারের পরেই দিল্লির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বঙ্গ বিজেপিতে। কেন্দ্রীয় নেতাদের মাতব্বরি অনেক বঙ্গ বিজেপি নেতা মানতে পারেননি।

আদি বিজেপির একাংশ চাইছে অবিলম্বে সুব্রত চ্যাটার্জিকে ফিরিয়ে আনা হোক। বঙ্গ বিজেপিকে রক্ষা করতে এছাড়া আর উপায় নেই বলেও জানাচ্ছেন তারা। সেই সঙ্গে একজন কেন্দ্রীয় নেতাকে এখনই বাংলা থেকে সরানো হোক এমনটাই দাবি উঠেছে বঙ্গ বিজেপিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *