অমরজিৎ দে, আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ১৫
জুন: সুবর্ণরৈখিক ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ, প্রসার এবং সরকারি স্বীকৃতির দাবিতে রবিবার ঝাড়গ্রামের একটি বেসরকারি হোটেলে ঝাড়গ্রাম জেলার নবনির্বাচিত মন্ত্রী ও বিধায়কদের সংবর্ধনা জানাল ‘সুবর্ণরৈখিক পরিবার’। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোপীবল্লভপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী রাজেশ মাহাতো, নয়াগ্রামের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অমিয় কিস্কু, ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ এবং বিনপুরের বিধায়ক ডাঃ প্রণত টুডু। ভাষাপ্রেমী, সংস্কৃতিকর্মী ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে সুবর্ণরৈখিক পরিবারের মুখ্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ পাল বলেন, “ভাষা, সংস্কৃতি ও সমাজসেবামূলক নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছে ‘আমারকার ভাষা আমারকার গর্ব’। এলাকার দুই মন্ত্রী ও দুই বিধায়কের উপস্থিতি আমাদের উৎসাহিত করেছে। তাঁরা সকলেই এই মাটির সন্তান। তাই তাঁদের হাত ধরে জঙ্গলমহলের উন্নয়নের পাশাপাশি ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসার আরও এগিয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।”

উল্লেখ্য, সুবর্ণরৈখিক ভাষা পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব সিংভূম এবং ওড়িশার সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রচলিত একটি কথ্য ভাষা। দীর্ঘদিন ধরে ভাষাটির স্বতন্ত্র পরিচয়, সাহিত্যচর্চা এবং সরকারি স্বীকৃতির দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছে। ভাষাবিদদের একাংশের মতে, আঞ্চলিক ভাষার সংরক্ষণ একটি অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং সামাজিক পরিচয় রক্ষার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজেশ মাহাতো সুবর্ণরৈখিক ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও বিকাশের উপর জোর দেন।


