আমাদের ভারত, ১৭ এপ্রিল:দিল্লি জাহাঙ্গিরপুরিতে শনিবার সন্ধ্যায় হনুমান জয়ন্তীর মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চেহারা নয় এলাকা। অভিযোগ মিছিলকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হারে পাথর ছোড়া হয়। তার থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। সংঘর্ষের ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনায় আহত হয়েছেন ৯ জন।
জানা গেছে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। ইট, পাথর, কাঁচের বোতল ছোড়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সংঘর্ষের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ জাহাঙ্গিরপুরি পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল সেটা নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয়েছে পুলিশকে। সংঘর্ষে আহত নয় জনের মধ্যে ৮ জন পুলিশ কর্মী ও একজন সাধারণ নাগরিক। সংঘর্ষের সময় গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তাতে আহত হয়েছেন সাব ইন্সপেক্টর মেধা লাল মিনা। তাঁর হাতে গুলি লেগেছে।
ঘটনায় আহত পুলিশ আধিকারিক অরুণ কুমার জানিয়েছেন দুই গোষ্ঠীর প্রায় এক হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। তাদের মধ্যে অনেকেই বাংলায় গালিগালাজ করছিল। বহু মানুষের হাতে তলোয়ার লাঠি রড ছিল। দুদিক থেকেই পাথর বৃষ্টি হচ্ছিল। ওই ভিড়ের মধ্যে থেকে গুলি চলে বলে দাবি করেছেন তিনি। তার অনুমান পরিকল্পনা করেই এই হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। কারণ এক মুহূর্তের মধ্যে রাস্তায় ওই পরিমাণ পাথর বা কাঁচের বোতল মজুদ করা সম্ভব নয়। আর পাথর বোতল আশপাশের বাড়ির উপর থেকে এসে পড়েছে বলে জানান তিনি।
দিল্লি পুলিশ কমিশনার রাকেশ আস্তানার বক্তব্য, শুধুমাত্র জাহাঙ্গিরপুরিই নয় আশেপাশের এলাকাতেও গোলমাল হয়েছে। আমরা অতিরিক্ত বাহিনী পাঠিয়েছি পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে উচ্চপদস্থ অফিসারদের নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। টহলদারি সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর রাখবেন তারা। একইসঙ্গে নেট মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবে কান না দিতে বলা হয়েছে পুলিশের তরফে।
এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দোষীদের চিহ্নিতকরণের কাজও শুরু হয়েছে। ষড়যন্ত্র করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিল্লির পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে বলেছেন এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

