পরিবেশ দিবসেই বৃক্ষচ্ছেদন বাঁকুড়ায়

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৫ জুন: বিশ্ব পরিবেশ দিবসে যখন বৃক্ষরোপণ উৎসবের আয়োজন দিকে দিকে, ঠিক তখনই বড়জোড়ায় একদল দুষ্কৃতি বৃক্ষ ছেদনে মেতে উঠল। পরিবেশবাদীরা এই নিয়ে সরব হয়েছেন। বন দফতরও দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।

দামোদর নদের বড়জোড়ার কাছ থেকে ডিভিসির একটি সেচ ক্যানেল গেছে মানগ্রাম, রাজপ্রসাদপুর গ্রামের পাশ দিয়ে। ২০০৯ বামফ্রন্টের পঞ্চায়েত ক্যানেলের দুই পাড়ে সোনাঝুরি গাছ লাগিয়ে ছিল বলে দাবি গ্রামের বাসিন্দা শরিফ মন্ডল, মোস্তফা হাজারিদের। তাদের অভিযোগ, এদিন কিছু লোক সকাল থেকে ওই গাছ কাটতে শুরু করে। আমরা বাধা দিতে গেলে ওরা বলে পঞ্চায়েতের নির্দেশে গাছ কাটছি। আমরা বোঝাতে থাকি যে, আজ একটা পবিত্র দিন। গাছ লাগানোর জন্য সরকার উৎসাহ দিচ্ছে। আর আপনারা গাছ কেটে পরিবেশ ধংস করছেন। শরিফ মন্ডল বলেন, ওরা প্রত্যেকে তৃণমূল আশ্রিত। এখন সোনাঝুরি গাছ বেশ দামি। ওগুলো কেটে বিক্রি করে সরকারি সম্পদ লুট করতে চাইছে ওরা। এরপর আমরা বড়জোড়া রেঞ্জ অফিসে অভিযোগ জানাই।

বড়জোড়ার বিধায়ক অলক মুখার্জি দাবি করেন, গাছ চুরি দুষ্কৃতিদের কাজ। এটা তৃণমূল কখনও প্রশ্রয় দেয় না। অলকবাবু বলেন, আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস। আমি নিজে বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, হাইস্কুল, গার্লস হাইস্কুল সহ বিভিন্ন এলাকায় গাছ লাগিয়ে এলাম। তারপর শুনলাম কিছু লোক গাছ চুরি করতে গিয়েছিল। বনদপ্তরের লোকজন যেতেই তারা চম্পট দিয়েছে। তাদের খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ ও রেঞ্জারকে বলেছি।

অন্যদিকে সিপিআইএম নেতা সুজয় চৌধুরীর দাবি, আমদের সময় প্রচুর পরিমাণে বন সৃজন করা হয়েছিল। ব্যক্তিগত জমিতেও গাছ লাগানো হয়েছিল। সেসব এখন ধংস করছে তৃণমূলের নেতারা। তিনি বলেন, আমার কাছে প্রমাণ আছে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির গাছও তারা কেটে বিক্রি করে দিয়েছে। এর জন্য মালিককে তার প্রাপ্যও দেওয়া হয়নি। সুজয় চৌধুরী দাবি করেন, ক্যানেল পাড়ে যারা গাছ কাটছিল তারা সকলেই তৃণমূল আশ্রিত।

এবিষয়ে বড়জোড়ার রেঞ্জার ঋত্বিক দে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছাতেই দুষ্কৃতিরা গাছ কাটার যন্ত্রপাতি নিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, ১০/ ১২ টা গাছ কেটে ফেলে রেখেছে। সেগুলি উদ্ধার করে রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসা হবে। পুলিশেও অভিযোগ দায়ের করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *