আমাদের ভারত, বীরভূম, ২৪ অক্টোবর: হরিণের চামড়া এবং দুধ জোগাড় করে দিলেই বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে নিখোঁজ ছেলেকে। দুধ ও চামড়া পেতে গেলে দিতে হবে মোটা অঙ্কের টাকা। ছাপোষা পরিবারের কাছে দুটোই আকাশকুসুম ভাবনা। বাধ্য হয়ে সিউড়ি থানার দ্বারস্থ হন পরিবারের লোকজন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের আগস্ট মাসে সিউড়ির লাঙ্গুলিয়ার বাসিন্দা লাল্টু বাউরি ছেলেকে নিয়ে বর্ধমানে ডাক্তার দেখাতে যান। মানসিক চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগেই বর্ধমান স্টেশনের বাইরে ছেলে রঞ্জন বাউরি নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপরেই পরিবারের সদস্যরা “ছেলে খোঁজে” বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার সাঁটিয়েছেন। ওইদিনই বর্ধমান স্টেশনে ছেলের নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করেন। বেশ কয়েকবার বর্ধমান স্টেশনে গিয়ে পুলিশের কাছে খোঁজখবর নেন। কিন্তু ছেলের খোঁজ মেলেনি।

শনিবার সকালে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে পোস্টারে দেওয়া নম্বরে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বাউরি পরিবারকে বলা হয় ছেলে কেনাবেচা অবস্থায় রয়েছে। তাকে উদ্ধার করতে গেলে হরিণের দুধ এবং চামড়া লাগবে। ওই দুটো দিতে না পারলে মোটা অঙ্কের টাকা লাগবে। এমনকি পরিবারের মোবাইলে একটি কিউ আর কোড পাঠিয়ে ওই অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়ার দাবি জানানো হয়। বার বার এমন ফোন পেয়ে বিভ্রান্ত হন বাউরি পরিবার। এরপরেই সিউড়ি থানায় যোগাযোগ করে বিষয়টি জানান। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
নিখোঁজ যুবকের বাবা লাল্টু বাউরি বলেন, “ছেলে মানসিক রোগী। মাঝে মধ্যেই হাত থেকে ছাড়িয়ে ছুটে পালিয়ে যায়। ওইদিনও স্টেশনের বাইরে যেতেই হাত থেকে ছাড়িয়ে ছুটে পালিয়ে যায়। আমরা অনেকটা ছুটেও তার নাগাল পাইনি। শেষে রেল পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাই। কিছু পোস্টার ছাপিয়ে বর্ধমান স্টেশন সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে সাঁটাই। সেখানে আমাদের পরিবারের ফোন নম্বর দেওয়া ছিল। সেই নম্বরেই শনিবার সকালে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে টাকা এবং হরিণের দুধ ও চামড়া দাবি করে। আমরা গরিব মানুষ। টাকা বা হরিণের দুধ ও চামড়া কোথায় পাব? তাছাড়া ফোনে ওরা বলছে না ছেলে কোথায় রয়েছে। শুধু বলছে ছেলে কেনাবেচা অবস্থায় আছে। ওদের বার বার ফোনে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। তাই বাধ্য হয়ে থানার সঙ্গে যোগাযোগ করি। কারণ ওদের দাবি পূরণ করার ক্ষমতা আমাদের নেই।”

