আমাদের ভারত, ৩০ মে: ১০ মিনিটেরও কম সময়ে খাবার জিনিস থেকে বাজার, বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার দাবি নিয়ে বিতর্ক উঠেছে।
এদেশে ১০ মিনিটে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছনোর গ্যারান্টি না থাকলে ১০ মিনিটেরও কম সময়ে খাবার জিনিস থেকে বাজার, বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে অনলাইন খাবার সরবরাহকারী সংস্থাগুলি। বিতর্কের সূত্রপাত, জোম্যাটোর প্রধান দীপিন্দর গোয়েরের একটি টুইটে। তিনি বলেন, এবার ১০ মিনিটে খাবার সরবরাহ হবে। তখনই কর্মীদের নিরাপত্তা, ট্রাফিক রুল ভঙ্গের বিষয়গুলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল নেটপাড়া।
পরিস্থিতি সামলাতে মাঠে নামেন খোদ দীপিন্দর। টুইটারে তিনি লেখেন, “১০ মিনিটে ডেলিভারি দেওয়ার জন্য আরও বেশি করে ফুড স্টেশন খোলা হবে। এবং ডেলিভারি পার্টনারদের সর্বাধিক ২ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে খাবার ডেলিভারির জন্য যেতে হবে।” অন্যদিকে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ১০ মিনিটে ডেলিভারি না দিতে পারলে ডেলিভারি পার্টনারদের কোনও জরিমানা দিতে হবে না। এর সঙ্গে তিনি আরও বলেন, ম্যাগি ১০ মিনিটের মধ্যে ডেলিভারি করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ তিনি একপ্রকার বুঝিয়ে দিয়েছেন যে ধরনের খাবার ২ মিনিটের মধ্যে রান্না করা সম্ভব শুধুমাত্র সেই খাবার ১০ মিনিটের মধ্যে ডেলিভারি দেওয়া হবে। শুধু জোম্যাটো নয়, বাজারি প্রতিযোগিতায় একই পথের পথিক একাধিক অনলাইন ডেলিভারি সংস্থা। সেই নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ তৃণমূল সাংসদের।
শৌভিক চক্রবর্তী লিখেছেন, “কথাটা অনেকাংশে সত্যি বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন সংস্থাগুলো যেরকম প্রতিযোগিতা শুরু করেছে তাতে বিপন্ন হচ্ছে ডেলিভারি বয়দের জীবন, সামান্য পারিশ্রমিক দিয়ে অমানুষিক পরিশ্রম করানো হয়। এক্ষেত্রে সরকার থেকে একটা নির্দিষ্ট নীতি ঠিক করে দেওয়া উচিত। পঙ্কজ কুমার বিশ্বাস লিখেছেন, “কোনো ইস্যু নেই হাতে, আগে বলতে গিয়ে মাননীয় স্পীকারের কাছে ঝাড় খেয়ে খেই হারিয়ে ফেলে প্রলাপ বকে যাচ্ছে।”
পৃথক পোস্টে লেখিকা সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “আমি এই ইস্যুতে ১০০ভাগ মহুয়া মৈত্রর পক্ষে। ১০ মিনিটে পিৎজা কেন যে কোন খাবার ডেলিভারি করার মারণ চাহিদার সম্পূর্ণ বিপক্ষে আমি। আমাদের মত একটা জনবহুল দেশে, বিশৃঙ্খল যানব্যবস্থার মধ্যে মরণসংগ্রাম করে কী প্রয়োজন আছে খাবার ১০/২০ মিনিটে পৌঁছোনোর? প্রতিদিন মানুষকে আধুনিক দাসে পরিণত করা হচ্ছে আমাদের চোখের সামনে, প্রতিদিন মানুষকে পেশা ও জীবিকার নামে মর্মান্তিক ভাবে নতুন নতুন শোষণের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আপনি আমি বুঝে না বুঝে এই ষড়যন্ত্রের অংশীদার হচ্ছি। আমি কী চাই, আপনি কী চান এরকম ভাবে জীবন বিপন্ন করে একটা মানুষ আমার, আপনার খাবার ডেলিভারি করুক? মানুষের শোষণে অজান্তে যদি হাত মিলিয়ে থাকেন তাহলে সেই হাত নামিয়ে নিন। ঠিক বিষয়ে প্রতিবাদে এগিয়ে আসুন।
একটা হ্যাশট্যাগ দিয়ে বা নিজের মত করে নিজের সহমর্মিতা জানান ফুড ডেলিভারি কমিউনিটিকে।
(খাবার অর্ডার করার সময় আলাদা করে বলে দিন যে কোনো প্রয়োজন নেই আপনার ১০ মিনিটের খাবার, ডেলিভারির লোক যেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে না ডেলিভারির কাজ করে।”
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় এই পোস্টের ৩০টি মন্তব্য, ৩৩ টি শেয়ার এসেছে।

