সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৩০ মে: বছরের পর বছর বেশ কিছু প্রকল্প শেষ হয়নি। এই রিপোর্ট পেতেই বেজায় চটলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসনিক বৈঠকে পুরুলিয়ায় এসে দুর্নীতি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তিনি।

এদিন বেলা দুটো থেকে পুরুলিয়া রবীন্দ্রভবনে প্রায় দু’ঘন্টা প্রশাসনিক বৈঠক করেন তিনি। প্রথম থেকেই আজ আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে দুর্নীতি নিয়ে সরব হন তিনি। সব থেকে বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের বিরুদ্ধে। সাধারণ মানুষ বিশেষত আদিবাসীরা মিউটেশন সহ জমি সংক্রান্ত কাগজপত্র তৈরি করতে গিয়ে দালালদের খপ্পরে পড়ে যাচ্ছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এই সমস্যার সম্মুখীন বেশ কয়েকজন আদিবাসী কৃষককে মঞ্চেও তুলে ধরেন তিনি। বলরামপুর ভূমি সংস্কার দফতরের সামনের দুটি দোকানের নাম উল্লেখ করে সেগুলিকে সিল করার নির্দেশ দেন তিনি।
বালি ও পাথর তোলার ক্ষেত্রে সরকারি রাজস্বর অনেকটাই দুর্নীতি গ্রস্ত কর্মচারীরা নিজেরা নিয়ে নিচ্ছে এই অভিযোগ পেয়ে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। কঠোর ব্যবস্থা নেবার নির্দেশ দেন তিনি। পুরুলিয়ার শিল্পায়ন এবং পর্যটন নিয়েও এদিন বেশ কিছু কথা বলেন তিনি। হোম স্টে বাড়ানোর নির্দেশ দেন। একটি দশ একর জমিতে ফিল্ম সিটি অযোধ্যাপাহাড় এলাকায় গড়ার কথা বলেন তিনি। রঘুনাথপুরে ৭২ হাজার কোটি টাকার ইণ্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক হচ্ছে বলে জানান তিনি। ছড়রার পরিত্যক্ত বিমানবন্দরটি চালু করার চেষ্টাও হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিন লোধা ও শবরদের জন্য পৃথক উন্নয়ন বোর্ডের ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন বৈঠকে আসার সময় পুরুলিয়া রবীন্দ্র ভবনের স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও মাটি সৃষ্টি প্রকল্পের স্টল থেকে সবজি কেনেন মুখ্যমন্ত্রী। পুরুলিয়ার রবীন্দ্রভবনে ঢোকার মুখেই স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও মাটির সৃষ্টি প্রকল্পের বেশ কিছু স্টল করা হয়েছিল। সেই স্টল গুলি মুখ্যমন্ত্রী ঘুরে দেখার সময় নিজেই সবজি কেনেন তিনি। করলা ও ভেন্ডি কেনার পাশাপাশি অন্যান্য সবজিও দেখেন তিনি। প্রথম থেকেই এদিন সমালোচনার মেজাজে থাকলেও সভার একেবারে শেষে ঝালদার পৌর প্রধান সুরেশ আগরওয়ালের নিয়ে মুখ্য মন্ত্রীর মন্তব্য হাসির ফোয়ারা ছুটিয়ে দেয় সারা সভাজুড়ে।

