স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৮ জুলাই:
দীর্ঘ লকডাউনে বন্ধ তাঁত ঘরের ঠকঠক শব্দ! তবে হামাল দিস্তায় কাচ গুঁড়ো করার শব্দ কিছুটা হলেও উপার্জনের দুঃখ ভুলিয়ে ক্ষনিকের আনন্দ দানে সমর্থ হয়েছে। একের পর এক ধর্মীয় সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। কর্মহীন হয়ে গৃহবন্দি অবস্থায় থেকে, একটু মানসিক অবসাদ কাটাতে ঘুড়ি ওড়ানো কার্যত উৎসবে পরিণত হয়েছে শান্তিপুরে।
কিন্তু বেশ কয়েক বছর যাবৎ চীনা মাঞ্জার সুতো জায়গা করে নিয়েছিলো সাবেকি সুতোকে দূরে সরিয়ে। তবে, এই সুতোয় পশুপাখি বা গাছ গাছালি এতদিন যাবৎ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, মানুষের টনক নড়েছে নিজেদের ক্ষতির পর। তীক্ষ্ণ ধার যুক্ত অত্যন্ত শক্ত এই নাইলন সুতোয় গত বছরও কারও আঙ্গুল কারো বা কান বা অন্য কোনও অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কেটে রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনা সকলেরই জানা। মূলত রথ কেন্দ্রিক ঘুড়ি ওড়ানোর রীতি এবছর শুরুর প্রথম দিকেই দুই শিশুসহ এক প্রৌঢ় এবং এক বৃদ্ধ গুরুতর জখম হওয়ার পর, আত্মসমালোচনার ঝড় সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে। বিক্ষোভ ডেপুটেশন সুশীল সমাজের। প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়েও। অবশেষে নাইলন শত্রুর বিরুদ্ধে প্রচার অভিযান, ধরপাকড় শুরু হয়েছে শান্তিপুর থানার পক্ষ থেকে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই ব্যবসায়ীকে। তাদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বেশকিছু ঘুড়ি, লাটাইসুতো।

যদিও একাংশ মনে করেন রাঘববোয়ালরা গোপনে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের রমরমা ব্যবসা। শুধু চুনোপুঁটিরা ধরা পড়েছে। তবে পুলিশি শাসনেই হোক বা নিজেদের সচেতনতায় আবার প্রভাব বিস্তার করছে দেশীয় পদ্ধতিতে হামাল দিস্তায় কাঁচ গুড়ো। তা কাপড়ে চেলে, আতপ চালের মান্ডি করে, মোটা কাপড়ে আঙ্গুলে টিপে ধরে, রাস্তার এক লাইটপোস্ট থেকে অন্য লাইটপোস্ট পর্যন্ত লাটাই হাতে ছেলেদের আগের মত দেখা মিলছে শান্তিপুরের পথে ঘাটে।
তাদের কাছ থেকেই জানা গেছে, সকলেই সুতির সুতো ব্যবহার করলে কোনো অসুবিধা নেই! তবে নাইলন সুতা ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ।
ঘুড়ি প্রেমীদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, লাভ ক্ষতির হিসাবের দিক থেকে অবশ্য, নাইলন সুতা পচনশীল নয়, মাঞ্জা দেওয়ার সময়, শ্রম দুটোই বাঁচতো। তাই একটু বেশি দাম হলেও পড়তা ছিলো। তবে, প্রাণের থেকে কখনোই বেশি দাম নয়। বিপদ যে নিজেদের আসবে না এ কথা কে বলতে পারে? তাই কুঅভ্যাস বদল।
তবে শান্তিপুরের ঘুড়িপাড়া নিশ্চিন্তপুর এবং বিভিন্ন এলাকায় ঘুড়ি সুতো বিক্রেতাদের মাথায় হাত। তারা প্রশাসনিক দিক থেকে কোনো স্পষ্ট ধারণা পাননি, সুতির সুতোতেও মাঞ্জা দেওয়া অপরাধ কিনা সে বিষয়ে। তবে বেশ কয়েকটি দোকানে নিজেরাই সুতির সুতোতে মাঞ্জা দিয়ে বিক্রি করছেন।

