শিশুদের জ্বরের উপসর্গ নিয়ে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভিড় অভিভাবকদের

স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১৫ সেপ্টেম্বর: শিশুদের জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে রাজ্যের জেলাগুলিতে। উত্তর বঙ্গের জেলাগুলিতে পরিস্থিতি ক্রমশ সঙ্কটজনক চেহারা নিচ্ছে। ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়িতে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে শিশুদের জ্বরের উপসর্গ নিয়ে ভিড় করছেন অভিভাবকরা। যদিও চিকিৎসকদের মত সম্ভবত ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত হচ্ছে ক্ষুদেরা।

উল্লেখ্য, করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি শিশুদের।এবিষয়ে আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এরই মধ্যে শিশুদের অজানা জ্বরে উদ্বেগ বাড়ছে জেলাগুলিতে। ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়িতে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। জ্বরের প্রকৃত কারণ জানার জন্য রক্ত ও লালারসের নমুনা পাঠানো হয়েছে কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন ও নাইসেডে। জ্বরের ভাইরাস চিহ্নিত করার জন্য বিশেষজ্ঞরা কথা বলেছেন হু-র সঙ্গে। তবে এই জ্বরের সঙ্গে করোনার সম্পর্ক রয়েছে কি না সেবিষয়ে এখনো সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি শিশু চিকিৎসকরা।

উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলির পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুর জেলাতেও অজানা জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। প্রায় প্রতিদিন রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে আসছেন অভিভাবকরা। রায়গঞ্জের বিশিষ্ট শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অসিত ব্যানার্জি বলেন,”জ্বর, সর্দি, কাশির উপসর্গ নিয়ে শিশুরা আসছে। সম্ভবত ভাইরাল ফিভার। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ খেতে হবে। নিজে থেকে কোনও ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াবেন না। ফুসফুসে সংক্রমণ রয়েছে কি না তা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের যতটা সম্ভব বাড়িতে রাখুন, ভিড় জায়গায় নিয়ে যাবেন না। কারো সর্দি-কাশি হলে শিশুদের তাদের থেকে দূরে রাখুন।

“অন্যদিকে জায়গির মেডিক্যাল কলেজের শিশু চিকিৎসক নীলাঞ্জন মুখার্জি বলেন,”গড়ে প্রতিদিন সাত থেকে আটজন শিশু হাসপাতালে আসছে জ্বরের উপসর্গ নিয়ে। কারোর শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, ডায়েরিয়ার উপসর্গ রয়েছে। হাসপাতালের ওয়ার্ডে পনেরো থলকে ষোলো জন ভর্তি রয়েছে। প্রতিবছর এই সময় ভাইরাল ফিভার হয়, এবছর একটু আগেই শুরু হয়েছে। তবে রক্তের রিপোর্ট না দেখে জ্বরের প্রকৃত কারণ জানা যাবে না।”

অন্যদিকে মেডিক্যাল কলেজের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার অভীক মাইতি বলেন,”গত চব্বিশ ঘণ্টায় ষোলো জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য পিকু ও নিকু ওয়ার্ড তৈরীর কাজ খুব শীঘ্রই শেষ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *