আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ১৫ সেপ্টেম্বর : সভা চলাকালীন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গন্ডগোলকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল শিলিগুড়ির নিয়ন্ত্রিত বাজারে। আইএনটিটিইউসি’র জেলা সভাপতির সামনেই ভাঙ্গচুর করা হলো চেয়ার। ঘটনায় পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হলে মোতায়ন করা হয় বিশাল পুলিশবাহিনী। তবে বিষয়টিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলের গুন্ডা বাহিনীর হামলা বলে দাবি শ্রমিক সংগঠনে জেলা সভাপতি নির্জল দে’র।
নির্বাচনের পর গোটা রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি ও শ্রমিক সংগঠনের রদবদল হয়। একই সাথে দার্জিলিং জেলায় তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতিকে পরিবর্তন করা হয়। নতুন সভাপতি করা হয় নির্জল দে’কে। আর এতেই ক্ষোভে ফুঁসছে শিলিগুড়ির নিয়ন্ত্রিত বাজারের তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের এক গোষ্ঠী। বুধবার বিকেলে নিয়ন্ত্রিত বাজারে এক সভার আয়োজন করা হয় INTTUC এর তরফে। অভিযোগ, সভা চলাকালীন ওই এলাকারই তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন নেতা শ্যাম যাদবের অনুগামী বলে পরিচিত কিছু শ্রমিক এসে সভায় চেয়ার ভাঙ্গচুর করার পাশাপাশি হামলা চালায়। ঘটনায় পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকলে ঘটনার খবর দেওয়া হয় প্রধাননগর থানাকে। ঘটনাস্থলে প্রধাননগর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

এই প্রসঙ্গে আইএনটিটিইউসি’র জেলা সভাপতি নির্জল দে বলেন, এদিন সভা চলাকালীন হঠাৎ করে কিছু সমাজ বিরোধী এবং গুন্ডা সভায় হামলা চালায়। আসলে এরা দলের কেউ নয় এরা মাফিয়া এবং গুন্ডা। ঘটনা নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। প্রশাসন ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তার আবেদন করছি।
একইসাথে ঘটনা নিয়ে দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী পাপিয়া ঘোষ বলেন, এটা দলের মধ্যে কোনও গণ্ডগোল নয়, বিজেপি এবং সিপিএমের কিছু অশুভ শক্তির দলের ভাই ভাই এদের মধ্যে গন্ডগোল লাগাতে চেষ্টা করেছে।

অপরদিকে, এই প্রসঙ্গে শ্যাম যাদব জানান, তার ওপর যে ভাঙ্গচুর ও হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে তা একেবারেই ভিত্তিহীন। আসলে সভায় উপস্থিত নেতারা সাম্প্রদায়িক বক্তব্য রাখছিল তাই সভায় উপস্থিত শ্রমিকরাই ক্ষুব্ধ হয়ে ভাঙ্গচুর চালিয়েছে।

