জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৫ সেপ্টম্বর:
সঙ্কট আসলে মমতা ব্যানার্জির, তাই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করার দায় নিয়েছে নির্বাচন কমিশন–এই কথা বললেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর আরও প্রশ্ন শুধু তিনটে আসলে কেন নির্বাচন হবে? রাজ্যের আর বাকি চারটি আসনে কেন নির্বাচন হচ্ছে? না রবিবার রবিবার দুর্গাপুরে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে এভাবে তুলোধোনা করলেন দিলীপ ঘোষ। একই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারিকে সিআইডি তলব প্রসঙ্গে তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগ করছেন।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণায় তৃতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নন্দীগ্রাম আসনে জিততে পারেননি। নিয়ম অনুযায়ী ছ’মাসের মধ্যে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসতে হয়। সম্প্রতি ভবানীপুর সহ তিনটি আসনে উপনির্বাচন ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আর তাতেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যে বহু পৌরসভায় ১-২ বছর ধরে নির্বাচন হয়নি। তার ওপর রাজ্যে মোট ৭ বিধানসভায় উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার বদলে মাত্র তিনটি আসনে উপনির্বাচন হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছে গেরুয়া শিবির। রবিবার দুর্গাপুরে দলের বিধায়ক কাফ ফুটবল প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে এসেছিলেন দিলীপ ঘোষ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “রাজ্য ৭ টি বিধানসভায় নির্বাচন হওয়ার দরকার। তিন আসনে নির্বাচন কেন? বাকি চার আসনে কেন নয়? বাকি চার আসনের মানুষ কি অন্যায় করল? রাজনৈতিক অধিকার বঞ্চিত করা হচ্ছে সেখানের মানুষকে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন বলছে, কোভিড পরিস্থিতিতে নির্বাচনের অনুকুল পরিবেশ নেই। অথচ কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন বলছে উপনির্বাচন দরকার। তাও ভবানীপুর সহ তিনটি আসনে। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি প্রার্থী। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী করার দায় নিয়ে নিয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন।”
তিনি বলেন, “রাজ্যের বাকি দুই মন্ত্রী কি দোষ করল? একজনকে জোর করে ইস্তফা দিতে বাধ্য করে প্রার্থী হচ্ছেন মমতা ব্যানার্জি। রাজ্যে কোনও সাংবিধানিক সঙ্কট নয়। সঙ্কটটা মমতা ব্যানার্জি আর তৃণমূলের।”
বিধায়কদের দলত্যাগ ও রায়গঞ্জের বিধায়কের বেসুরো মন্তব্য প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমাদের কর্মীরা যারা রক্তঘাম ঝড়িয়ে পার্টি করেছেন। তারাই মার খাচ্ছেন। তারা দল ছেড়ে যায়নি। সুখের পায়রা যারা তাদের কষ্ট হচ্ছে তারা যাচ্চেন, তারা কোনও দিন বিজেপির ছিলেন না। তারা এসেছিলেন, বিজেপির টিকিটে জিতেছিলেন, এখন যাচ্ছেন। তাদের ধান্দা ব্যবসা তৃণমূল বন্ধ করে দিচ্ছে। তারা মনে করেছে বিজেপিতে কোনও সবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের রোষে পড়া হচ্ছে। বিরোধীদের সঙ্গে থেকে লড়াইটা কঠিন। তারাই যাচ্ছে।”
এদিন তিনি বলেন, “কতজনকে কাউন্টার করবেন? তৃণমূলের অনেকে ইডি, সিবিআইয়ের নেমন্তন্ন পাচ্ছেন। সবাই দেখেছে কিভাবে বান্ডিল বান্ডিল টাকা নিচ্ছে। সিবিআই তদন্ত করছে। হিংসার ঘটনার তদন্ত করছে। তার প্রভাব পড়েছে। পুলিশের সামনে পিটিয়ে মারা হয়েছে। পুলিশ এফআইআর নেয়নি। তদন্তের প্রভাব পড়েছে। কেউ পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কেউ আদালতে আত্মসমর্পন করছে।”
শুভেন্দু অধিকারিকে সিআইডি তলব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কোথাকার কবেকার কেস, এখন ডাকা হচ্ছে। প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে রাজ্য। পরিস্কার সেটা দেখা যাচ্ছে।” জাভেদ আকতারের মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন,” বয়স হয়েছে। ভুলে যাচ্ছে। তালিবান সম্বন্ধে জানেন, আফগানিস্তানে যান। সেখানে ভালো থাকবেন।”

