সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাকুঁড়, ২৬ নভেম্বর: দিদি-মোদী সেটিং হয়ে গেছে, সুতরাং বিজেপিকে দেশছাড়া করতে ও আরএসএস’কে সংযত করতে বিজেপি বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দলকে জোটবদ্ধ হতে হবে। আজ কৃষক আন্দোলনের বর্ষ পূর্তিতে সিপিএমের উদ্যোগে আয়োজিত বড়জোড়ায় এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই আহ্বান জানান সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অমিয় পাত্র।
তিনি বলেন, কৃষি আইন প্রত্যাহারের ভিতরেই নিহিত আছে আরও জোটবদ্ধ হওয়ার ও আরও লড়াই করার বীজমন্ত্র। তাই আগামী ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে দেশ থেকে হঠাতে এবং আরএসএসকে সংযত করতে দেশের সমস্ত বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে এক ছাতার তলায় এসে দাঁড়াতে হবে। এদিন নরেন্দ্র মোদী সরকারকে একহাত নেন অমিয়বাবু। পাশাপাশি তিনি তৃণমূল নেতাদের কান্ডজ্ঞান হীন বলে তুলোধুনা করতেও ছাড়েননি।

অমিয় পাত্র বলেন, ৩০ বছর আগে আমরা কোন দল সম্পর্কে কি বলেছি তা এই মুহূর্তে অপ্রাসঙ্গিক। এখন দেশের দুর্দিনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সমস্ত বিরোধী দলকে একতা বদ্ধ হয়ে বিজেপি ও আরএসএস’কে দেশ ছাড়া করতে হবে। তিনি বলেন, ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে আগে বরাদ্দ ছিল ১১০ কোটি টাকা। এখন বরাদ্দ ৭০ কোটি। এই ৪০ কোটি টাকা সরিয়ে নিয়ে গরিবের হকের টাকা মেরে দিয়েছে। আর তৃণমূলদের তো কান্ডজ্ঞানই নেই। তারা বলছে কাজ করো কিন্তু মজুরি পাবে না। কেন্দ্র যখন বরাদ্দের টাকা পাঠাবে তখন পাবে। কেন্দ্র তো বলেই দিয়েছে টাকা নেই। তাহলে মোদীরও কিছু আসবে না আর দিদির তো কাঁচকলা। তিনি ২১ টা প্রকল্প দেখিয়ে দেওয়াল লিখন করে বলছে অমুক প্রকল্প তমুক প্রকল্প। আসলে যিনি বার্ধক্য ভাতা পাবেন তিনি বিধবা ভাতা পাবেন না। তিনি লক্ষ্মীর ভান্ডারও পাবেন না। পাবেন যে কোনও একটি প্রকল্পের ভাতা। কিন্তু আপনি যদি ১০০ দিন কাজ করেন পাবেন ২১,৫০০ টাকা। বাস্তবে পাচ্ছেন ৮,৩২০ টাকা। বাকি হকের টাকা গেল কোথায়। মোদীও বলছেন না দিদিরও গলাতে উত্তর নেই। আসলে দিদি মোদী সেটিং-এ চলছে। কারণ মোদী বলে দিয়েছেন বেশি ট্যাঁ-ফোঁ করলে যে কোনও দিন অভিষেককে জেলে ভরে দেব। তাই তুমি সর্ব ভারতীয় নেত্রী হব বলে কংগ্রেস শাসিত রাজ্য গুলোতে যাও। দু একজন কংগ্রেস নেতাকে ভাঙিয়ে সেই রাজ্যে কংগ্রেস বিরোধীতা শুরু করো। রাতারাতি কি পরিবর্তন! ভাইপোকে সিবিআই ডাকলো তারপর বেরিয়ে এসেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বলতে শুরু করল। অভিষেক পিসিকে এসে বোঝালো কংগ্রেস বিরোধীতা না করলে আমার জেল অবধারিত। আমার বিরুদ্ধে সমস্ত দলিল দস্তাবেজ সিবিআইয়ের হাতে রয়েছে। সেই থেকে দিদিও শুরু করল। ত্রিপুরায় কংগ্রেস ভাঙিয়ে খেলা দেখাতে আরম্ভ করল একই ভাবে অসম, গোয়া অন্যান্য রাজ্য গুলিতেও।
অমিয় পাত্র বলেন, দুদিন আগে কাগজে দেখলাম দিদি-মোদীর যুগল বন্দি। প্রধানমন্ত্রী আসবেন কাশফুলের বালিশ তৈরির শিল্প সম্মেলনের উদ্বোধনে। তাই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বলছি কেন্দ্রে যেমন মোদীকে হঠাতে না পারলে দেশের সর্বনাশ আটকানো যাবে না তেমনি এখানে তৃণমূলকে না সরালে পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের দুর্দশা ঘুঁচবে না। এদিন এই কৃষি আন্দোলনের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের পূর্বে একটি মিছিল শিল্পাঞ্চল পরিক্রমা করে। সমাবেশে দলের নেতা সুজয় চৌধুরী, প্রাক্তন বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তী বক্তব্য রাখেন।

