kali Temple, Maharaja Nandakumar, মহারাজা নন্দকুমারের প্রতিষ্ঠিত গুহ্যকালী মন্দিরের সংস্কারের নামে চাঁদা তোলা নিয়ে বিতর্ক

আমাদের ভারত, বীরভূম, ৫ অক্টোবর: সরকার বদল হতেই বীরভূমের নলহাটি থানার আকালিপুর গুহ্যকালি মন্দিরে সংস্কারের নামে শুরু হয়েছে তোলাবাজি। রীতিমত রশিদ ছাপিয়ে মন্দির সংস্কারের নামে টাকা তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ। মন্দিরের নামে চাঁদা আদায়কে তোলাবাজি বলতে নারাজ তথাকথিত কমিটির সদস্যরা, বিজেপির মণ্ডল সহ সভাপতি রবিশঙ্কর প্রামাণিক। তার দাবি মহারাজার পরিবারের অনুমতি নিয়েই চাঁদা তোলা হচ্ছে। যদিও মন্দিরের রাজ পরিবারের দৌহিত্র পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন, অনুমতি ছাড়াই মন্দির সংস্কারের নামে চাঁদা তোলা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ১৭৭৫ সালে মহারাজা নন্দকুমার স্বপ্নাদেশ পেয়ে কাশী থেকে কষ্টি পাথরের মূর্তিটি নদী পথে নিয়ে আসেন। তিনিই আকালিপুর গ্রামে শ্মশানের ধারে অষ্টভুজাকৃতির মন্দির নির্মাণ করেন। ২০০৪ সালে মন্দিরটি পুনরায় সংস্কার করা হয়। পৌষ সংক্রান্তি এবং দুর্গাপুজোর পর চতুর্দশীতে সেখানে মেলা বসে। এক সময় তৃণমূলের পক্ষ থেকে মেলা পরিচালনা করা হত। সরকার পরিবর্তনের পরেই বিজেপির কয়েকজন রীতিমতো রশিদ ছাপিয়ে মন্দিরের সামনে টেবিল চেয়ার লাগিয়ে চাঁদা তুলতে শুরু করেছেন। রশিদে নাম রয়েছে রবি শঙ্কর প্রামাণিক, সুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়, গৌরিশঙ্কর ভট্টাচার্য।

রবিশঙ্করবাবু নিজেকে কমিটির সম্পাদক পরিচয় দিয়ে বলেন, “মন্দিরের অবস্থা খুব খারাপ। চারিদিকে আগাছা। মন্দিরের ভিতর জল পড়ছে। সেই কারণে আমরা গ্রামবাসীরা একটি কমিটি গঠন করে চাঁদা তুলে মন্দির সংস্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেই কারণেই চাঁদা তোলা হচ্ছে। চাঁদা তোলার বিষয়ে মহারাজা নন্দকুমারের পরিবার অনুমতি দিয়েছেন।”

যদিও মহারাজা নন্দকুমারের দৌহিত্র ভবানীশঙ্কর রায় বলেন, “মন্দিরের সংস্কার আমরাই করি। আমরা কাউকে চাঁদা তোলার অনুমতি দিইনি। যদি কেউ মন্দির সংস্কারের নামে চাঁদা তুলছেন তারা নিজেদের স্বার্থে চাঁদা তুলছেন।“

গ্রামের বাসিন্দা তথা নলহাটি ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বরুণ ভট্টাচার্য বলেন, “এর আগে আমরা মন্দির সংলগ্ন মাঠে বছরে দুটি মেলা পরিচালনা করতাম। সেখানে রাজাদের পরিবার এবং প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মেলা করা হতো। কোনদিন রশিদ ছাপিয়ে বা কোনভাবে চাঁদা তোলা হয়নি। বর্তমানে যারা চাঁদা তুলছেন তারা কিসের ভিত্তিতে তুলছেন বলতে পারব না।”

বিজেপির ভদ্রপুর ১ নম্বর মণ্ডল সভাপতি, “গোবিন্দ মহান্ত বলেন, “তোলাবাজি তৃণমূলের সংস্কৃতি। বিজেপি ওই সংস্কৃতির বিরোধী। যারা চাঁদা তুলছেন তাদের মধ্যে আমাদের দলের মণ্ডল সহ সভাপতি রবিশঙ্কার প্রামাণিক রয়েছেন বলে জেনেছি। তাদের চাঁদা তুলতে মানা করা হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও তারা চাঁদা তুলছেন। আমরা এনিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছি। চাঁদা তোলা বন্ধ না হলে তাদের বহিষ্কার করা হবে। বিজেপি করতে গেলে তোলাবাজি করা যাবে না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *