“করোনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্তে শিশুদের মানসিক ভারসাম্যটাই নষ্ট করে ফেলা হল।“, ডঃ রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

আমাদের ভারত, কলকাতা, ৩ জানুয়ারি: “করোনা মোকাবিলায় রাজ্য সরকার প্রথম দিন থেকেই নানা পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে।“ এই অভিযোগ করেছেন জাতীয়তাবাদী অধ্যাপক ও গবেষক ডঃ রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়।

রঞ্জনবাবু জ।নান, “এর বিরূপ ফলশ্রুতি সর্বাধিক পড়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হাস্যকর পরীক্ষা ব্যবস্থা। এতে ছাত্র ছাত্রীদের কতটা শেখা হল বা হল না, তার চেয়েও বড় কথা যে তাদের মানসিক ভারসাম্যটাই নষ্ট করে ফেলা হল। শিশুদের মানসিক অবস্থা নিয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ যথেষ্টই আশংকাজনক। সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা ও পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এর প্রভাব পড়তে বাধ্য।

এই রাজ্যের একটি বিশেষ বিষয় হল, লকডাউন আংশিক হোক বা পূর্ণ হোক, ভোটের রাজনীতির দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ বিশেষ সম্প্রদায় ও তাদের ভোটব্যাঙ্কের কথা ভেবে ধর্মীয় অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়ে লকডাউনের ঘোষণা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য চুলোয় যাক, দুধেল গরু দুধ দিয়ে যাক।

তৃতীয় ঢেউ যে আসবে তা সরকারের অজানা ছিল না। দুর্গা পূজার সময় থেকেই কড়াকড়ি করা যেত। নিউ ইয়ার্সের শীতের ছুটিতে আমোদপ্রিয় রাজ্যবাসী যে কোনও বিধিরই ধার ধারবে না— তাও অজানা ছিল না। নৈশকালীন বা আংশিক বিধিনিষেধ আরোপ করলে হয়তো বা এতোটা বিচলিত হওয়ার অবকাশ হত না।

মদের দোকান থেকে রেস্টুরেন্ট বা শপিং মল থেকে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রভৃতি থেকে মহামারী ছড়ায় না, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ছড়ায়— এই পরামর্শটাই বা রাজাকে কে দিলেন, জানতে ইচ্ছে করে। বারংবার শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতি ও স্বজনপোষণে হাইকোর্টের ধমক খাওয়া ভুলিয়ে দিতে এই ব্যবস্থা কূটনৈতিক চাল নয়তো?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *