সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৯ মে: ঝালদায় তপন কান্দু খুনে সিবিআইয়ের তদন্তে গতি নেই। হতাশ হয়ে পড়লেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো ও নিহতের পরিবার। কলকাতা উচ্চ আদালতের নির্দেশিকার পর সিবিআই তদন্তের আজ ৪৫ দিন। তবুও তদন্তে তেমন অগ্রগতি নেই বলে দাবি জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতোর। নেপাল মাহাতো বলেন, “তদন্ত চলছে, রিপোর্ট জমা দেয়নি সিবিআই। তবুও সার্বিকভাবে তদন্ত ঢিলে তালে চলছে। আমরা একেবারে খুশি নই। কোর্ট মনিটরিংয়ে সিবিআইয়ের খামতি থাকলে সেখানেই চেপে ধরব।”

নিহত তপনের স্ত্রী পূর্ণিমা কান্দু আজ বলেন, “খুনের পিছনে বড় বড় মাথাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেনি সিবিআই। আই সি সঞ্জীব ঘোষ ঝালদা থানার এখনও ওসি হিসেবে রয়েছেন। এঁদের গ্রেফতার করেনি সিবিআই।”

সিবিআইয়ের তুলনায় সিটের তদন্ত কোনো অংশে কম ছিল না বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের। রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো বলেন, “তদন্তের গতি প্রকৃতি সিবিআই নিজের মতো করে করলেও বিশেষ কিছু সাফল্য নেই। সিট যা করেছিল মাত্র কয়েক দিনে সেটাই এখন রয়েছে।”
প্রসঙ্গত, ঝালদার কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দুর তাদের খুনের ঘটনার পর থেকেই সিবিআই তদন্তের দাবিতে সোচ্চার হয় জেলা কংগ্রেস ও নিহতের পরিবার। সেই তদন্তের অনুমতিও দেয় কলকাতা উচ্চ আদালত। কিন্তু এই তদন্তের ৪৫ দিন পরেও তদন্তের অগ্রগতি নেই বলে দাবি কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতোর।

গত ১৩ মার্চ দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন ঝালদার কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু। এরপরই এই ঘটনার তদন্তে নামে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারি দল(সিট)। তারপরই এই খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবিতে সোচ্চার হয় নিহতের পরিবার সহ কংগ্রেস নেতৃত্ব। গত ৪ এপ্রিল কলকাতা উচ্চ আদালত এই খুনের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেয় সিবিআইকে। ৬ এপ্রিল তপন কান্দু খুনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিরঞ্জন বৈষ্ণবের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। সেদিনই সিটের কাছ থেকে তদন্ত ভার নেয় সিবিআই। এরপরই সিটের হাতে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের জেরা করে সিবিআই তদন্তকারি অফিসাররা। পাশাপাশি এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পাশাপাশি অন্যান্য ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চালায় সিবিআই। ১২ এপ্রিলই কংগ্রেস কাউন্সিলর খুনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিরঞ্জন বৈষ্ণবের মৃত্যুতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় কলকাতা উচ্চ আদালত। এখনো পর্যন্ত কংগ্রেস কাউন্সিলর খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন ৫ জন অভিযুক্ত। বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন দীপক কান্দু, নরেন কান্দু, আশিক খান, কলেবর সিং ও সত্যবান পরামানিক।

