পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২১ ফেব্রুয়ারি: গৃহবধূর মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে শ্বশুর বাড়ির লোকেদের সাথে হাতাহাতি মেয়ের বাড়ির লোকেদের। সোমবার সকালে এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় বালুরঘাট হাসপাতাল চত্বরে। যদিও পুলিশ ও হাসপাতাল কর্মীদের তৎপরতায় স্বাভাবিক করা হয়েছে পরিস্থিতি। ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে গৃহবধূর মৃতদেহ। ঘটনা নিয়ে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলেছেন মৃত গৃহবধূর পরিবারের লোকেরা। অভিযোগ পেলেই পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখার আশ্বাস বালুরঘাট থানার পুলিশের।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ওই গৃহবধূর নাম চম্পা বর্মন(২৫)। বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের অমৃতখন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের মালঞ্চা এলাকায়। বছর তিনেক আগে বালুরঘাটের শরণগ্রাম এলাকার কৃষক উৎপল বর্মনের সঙ্গে বিয়ে হয় চম্পার। তাদের দেড় বছরের একটি সন্তানও রয়েছে৷ অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে নানা কারণে অকারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসা লেগেই থাকত। শুধু তাই নয় মদ্যপ স্বামী মেয়ের উপর নানা কারণে অকারণে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতো বলেও অভিযোগ। এরপর রবিবারই তাকে খুন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। সোমবার চম্পার অসুস্থতার কারণ বলে মেয়ের বাড়ির লোকেদের হাসপাতালে ডেকে নিয়ে আসে স্বামী উৎপল বর্মন। যেখানে এসেই কিছুটা হতবাক হয়ে পড়েন ওই গৃহবধূর বাড়ির লোকেরা। এরপর মেয়ের মৃত্যুর কারণ জানতে চাইতেই স্বামী ও তার শ্বশুর বাড়ির লোকেরা নানান কারণ তুলে ধরেন। আর এতেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন গৃহবধূর পরিবারের লোকেরা। চলে ধাক্কাধাক্কি ও মারপিট। ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়াতেই ছুটে আসেন পুলিশ ও হাসপাতালের কর্মীরা। যাদের হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি।
মেয়ের মা সুচিত্রা বর্মন ও দাদা মৃত্যুঞ্জয় বর্মনরা বলেন, তাদের মেয়েকে খুন করা হয়েছে। কখনো বলছে গ্যাস হয়েছে, আবার কখনো বলছে ভুল ওষুধ খেয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই মেয়ের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছিল স্বামী সহ তার পরিবারের লোকেরা। প্রতিদিন ফোনে সেগুলি জানতে পারলেও, গতকাল থেকে আর মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলতে পারেননি তারা। আজ সকালে হাসপাতালে ছুটে এসে তাঁর মৃতদেহ দেখতে পেয়েছেন। ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তারা।

