পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২০ জুলাই: বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল আয়োজিত হলো অরণ্য সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠান এবং জেলা স্তরের স্কুল প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে রাজ্যজুড়ে ১০ কোটি এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ৪০ লক্ষ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের সূচনায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বনাঞ্চলে শাল গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, জেলাশাসক (DM), পুলিশ সুপার (SP), বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড: পবিত্র কর, রেজিস্ট্রার ড: জয়ন্ত কিশোর নন্দী, বনদফতরের আধিকারিকসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন শীর্ষকর্তা ও বিশিষ্ট অতিথিরা।

এবারের অরণ্য সপ্তাহে ‘মায়ের নামে গাছ’ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি, অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র- ছাত্রীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সফলদের হাতে শংসাপত্র, স্মারক এবং গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। ছোট ছোট পড়ুয়াদের উৎসাহ, উচ্ছ্বাস এবং প্রকৃতির প্রতি তাদের আন্তরিক আগ্রহ অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। তারা প্রত্যেকেই নিজেদের প্রাপ্ত চারাটি রোপণ করে পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে তোলার অঙ্গীকার করে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রোপিত গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ, প্রকৃতি, পশুপাখি এবং সমগ্র জীববৈচিত্র্যের পারস্পরিক সহাবস্থানের মধ্যে দিয়েই একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে ওঠে। তাই নতুন প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও প্রকৃতিপ্রেম গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করার বার্তা তুলে ধরা হয়।

