আমাদের ভারত, ২০ জুলাই: দীর্ঘ আন্দোলন চলেছে যন্তর মন্তরে। এরপর সোমবার দিল্লির রাজপথে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়েছে, সংসদ অভিযানে টিয়ার গ্যাস ও লাঠি চার্জের মতো ঘটনা ও প্রবল দর কষাকষির পর অবশেষে আলোচনায় বসে কেন্দ্র সরকার। নিট কেলেঙ্কারি ও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে রাজপথে নামা ছাত্র ও যুব আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে জট কাটে আজ।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকের পর টানা ২৩ দিন ধরে চলা আমরণ অনশন প্রত্যাহার করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী তথা পরিবেশ আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুক। সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এবং ইতিবাচক আশ্বাসের ভিত্তিতে সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙলেন।
ডিহাইড্রেশন, পটাশিয়ামের মাত্রা বিপদজনক ভাবে কমে যাওয়া, কিরোটোনের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে গত ১৮ জুলাই সোনম ওয়াংচুককে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে সফদার জং হাসপাতালে ভর্তি করেছিল দিল্লি পুলিশ,কিন্তু হাসপাতালের বিছানাতেও চিকিৎসকদের দেওয়া স্যালাইন ও ওষুধ প্রত্যাখ্যান করে অনশন বজায় রাখেন তিনি।
রবিবার ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলি শিক্ষা ব্যবস্থার দায়বদ্ধতার বিষয় সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না দিলে অনশন থামবে না। এরপর সোমবার বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল রূপ ধারণ করে।
সকালে সাড়ে এগারোটা নাগাদ আন্দোলনকারী এবং ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে প্রথম সরকারের কাছে আলোচনার প্রস্তাব পাঠানো হয়।
বিকেল চারটেয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাডার সঙ্গে আন্দোলনকারী প্রতিনিধি দলের দফায় দফায় দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা আলোচনা চলে। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা চলার সময় ওই বৈঠকে প্রতিনিধিরা সরকারের কাছে তাদের লিখিত দাবি জমা দেন। বিকেল সাড়ে চারটের বৈঠকের পরে সরকারের তরফ থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত মিললে অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন ওয়াংচুক।
বৈঠক শেষে বৈঠকের অগ্রগতির কথা জানিয়ে এক্সে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নেড্ডা লেখেন, আজ সকালে আন্দোলনকারীদের তরফ থেকে প্রথম সরকারের কাছে আলোচনার প্রস্তাব আসে। বেলা ১১টা ৫০ মিনিট থেকে আমাদের কথা শুরু হয়, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দীর্ঘ আলোচনা চলেছে। প্রথমে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিস্তারিত মৌখিক কথাবার্তা হয়। বিকেল চারটে নাগাদ তারা আমায় লিখিত একটি আবেদন পত্র তুলে দেন।
নাড্ডা যোগ করেন, আমি আন্দোলনকারীদের আবেদন জানিয়েছি, তারা যেন তাদের ধর্না অবস্থান তুলে নেন এবং প্রশাসনিক পরিবেশ স্বাভাবিক করতে পুলিশ ও প্রশাসনকে সাহায্য করেন।
সোমবার থেকে আন্দোলনকে গতিশীল রাখতে হাসপাতাল থেকে পাঠানো সোনমের বিশেষ বার্তায় সাড়া দিয়ে নিজের অনশন প্রত্যাহার করেছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। মানসিক চাপে আত্মঘাতী হওয়া এক নিট পরীক্ষার্থীর বাবার হাত থেকে ফলের রস খেয়ে অনশন ভেঙেছিলেন অভিজিৎ। তার কিছু পরেই, “চলো সংসদ” অভিযানের চাপে কিছুটা বাধ্য হয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় বসে কেন্দ্র, যা শেষ পর্যন্ত ওয়াংচুকের ২৩ দিনের লড়াইয়ের সফল ইতি টানে।
তবে অনশন উঠলেও শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে কেন্দ্রের দেওয়া আশ্বাস কতটা বাস্তবায়িত হয় সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশের ছাত্র সমাজ। কোনো আশা ব্যঞ্জক পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত এই লড়াই থামছে না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন সিজেপি সহ আন্দোলনকারীরা।

