আমাদের ভারত, ১১ সেপ্টেম্বর: শিশুদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত আসক্তি ও ইন্টারনেটের সুরক্ষাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তা নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করলে সুপ্রিম কোর্ট। ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো নাবালকের সঙ্গে ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলি যাতে সরাসরি কোন চুক্তিতে আবদ্ধ হতে না পারে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন সুরক্ষা বলয় তৈরি করা যায় তা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকারের মতামত জানতে চেয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী, বিচারপতি ভি মোহনাই- এর বেঞ্চ একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক ও কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রককে নোটিশ পাঠিয়েছে।
মামলাকারীর আইনজীবীর সওয়াল জবাবের পর আদালতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সবটা পর্যবেক্ষণ করে মন্তব্য করেন, ভারতে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও কড়া আইনি নিরাপত্তার বলয় থাকা অত্যন্ত জরুরি।
আদালতে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলাটিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৮ বছরের কম বয়সী যে কোনো শিশুর সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গুলির করা চুক্তিকে সূচনা লগ্ন থেকেই সম্পূর্ণ অবৈধ ও বাতিল বলে ঘোষণা করার জন্য কেন্দ্রকে নির্দেশ দেওয়া হোক। পাশাপাশি এই ধরনের চুক্তির উপর ভিত্তি করে গৃহীত যাবতীয় পদক্ষেপ অবিলম্বে স্থগিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
ইন্ডিয়ান কন্ট্রাক্ট অ্যাক্টিভ ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী একজন নাবালকের সঙ্গে কোনো ধরনের আইনি চুক্তি গঠন করা যায় না এবং তা শুরু থেকেই মূল্যহীন। তা সত্ত্বেও ডিজিটাল এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইন্টারমিডিয়ারি সংস্থাগুলি কোনো উপযুক্ত আইনি প্রক্রিয়া বা সম্মতি ব্যাতি রেখে শিশুদের স্বাধীনতা তৈরি করার সুযোগ করে দিচ্ছে।
ফেসবুক ও স্ন্যাপ চ্যাট- এর মত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলি বর্তমানে মাত্র ১৩ বছর বয়স হলেই ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দেয়, যা ভারতের প্রচলিত আইনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত তৈরি করে। তথ্যপ্রযুক্তি নিয়মাবলী সংশোধন করে নির্দেশিকার আর্জি জানানো হয়েছে। যাতে অভিভাবক বা আইনি অভিভাবকের পরিচয় যাচাই করুন এবং সরাসরি সম্মতি ছাড়া কোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ১৮ বছরের কম বয়সীদের সঙ্গে চুক্তি না করতে পারে।
জনস্বার্থ মামলাটিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, উপযুক্তের বয়স যাচাই এবং অভিভাবকের পর্যবেক্ষণ না থাকলে অনলাইনে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে শিশুরা। এর ফলে শিশুরা সাইবার বুলিং, অনলাইন গ্রুমিং, যৌন শোষণ, মানব পাচার আচরণগত ম্যানিপুলেশন, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং তাদের বয়সে অনুপযুক্ত বিষয়বস্তুর মুখোমুখি হচ্ছে। সংস্থাগুলির তরফে স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট ফিল্টারিং টুল এবং কার্যকর বয়স যাচাইকরণ ব্যবস্থার অভাবে শিশুদের জীবন, সুরক্ষা, সম্মান ও সংবিধানের মৌলিক অধিকারকে ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত করছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সবকিছু শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট নোটিশ জারি করে কেন্দ্রীয় সরকারের মতামত ও পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চেয়েছে।

