জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩১ মে: পুলিশ লাগিয়ে, লোভ দেখিয়ে দু-চার জনকে নিয়ে গেলে পার্টি শেষ হয়ে যায় না, তাতে দলের কিছু এসে যায় না। যারা এসেছেন লড়াই করার জন্য তারা থাকবে, কিছু কিছু নেতা-নেত্রীর অন্য দলে যাওয়া প্রসঙ্গে মঙ্গলবার খড়্গপুরে দলের এক কর্মসূচিতে এসে এরকমই প্রতিক্রিয়া জানালেন দিলীপ ঘোষ।
বেঙ্গল ফাইলস অফ গুজরাট ফাইলস বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গুজরাট আর বাংলার মধ্যে ফারাক হচ্ছে, বাংলা ছেড়ে সবাই বেরিয়ে যায়, আর গুজরাটে গোটা বিশ্বের মানুষ আসে। বিভিন্ন কাজের শ্রমিক, রাজমিস্ত্রি এবং শিক্ষিত ও অশিক্ষিত যুবকরা বাংলা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। প্রাণের ভয়, মিথ্যা মামলা এবং পেটের টানে সবাই বাংলা ছেড়ে গুজরাটে চলে যাছে। সেখানে মানুষের থাকা-খাওয়া ও সুরক্ষার ব্যবস্থা আছে। সে রাজ্যে রাতে রাস্তায় ঘুরে বেড়ালে কেউ জিজ্ঞাসা করে না, আর এখানে বাচ্চাদের পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। বিরোধীদের হাজার-হাজার মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে, মেরে গাছে টাঙিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে গুজরাটের সাথে কোনোভাবেই বাংলার তুলনা হয় না। দিলীপ ঘোষ বলেন, বেঙ্গল ফাইলস হতেই পারে, বাংলার সাথে আফগানিস্তানের তুলনাও হতে পারে। তৃণমূল নেতাকে বরাত না দেওয়ায় পেটানোর ঘটনা টেনে তিনি বলেন, এটা নতুন কিছু নয়, এসব পাড়ায় পাড়ায় হচ্ছে। ব্যবসায়ীকে ধমকানো, দোকান কেড়ে নেওয়া, যারা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে তাদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়া এবং নিজেদের মধ্যে মারামারি করা ছবি চলছে। এসব থেকে নেতা মন্ত্রী এমএলএ পঞ্চায়েত কেউ বাদ নেই। এই হচ্ছে তৃণমূল পার্টিটার অবস্থা। গায়ের জোরে, পুলিশ দিয়ে দলটা চলছে।
মুখ্যমন্ত্রীর জঙ্গলমহল সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আসুন, আসলে রাস্তাঘাট ভালো হয়, লোকের ভালো হয়। আসুন দেখে যান জঙ্গল মহলের মানুষ গত এগারো বছরে কেমন আছে।একশো দিনের কাজের টাকা বাংলার গরিব মানুষরা না পাওয়ায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার দিল্লি অভিযানের যে ডাক দিয়েছেন সে প্রসঙ্গে খড়্গপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, আমরাও দিল্লিতে গিয়ে বলছি একশো দিনের কাজের আগে হিসাব নিন, তারপরে টাকা দিন। কারণ, গরিব মানুষ এই প্রকল্পের সঠিক সুবিধা পাচ্ছে না। এই প্রকল্পে কেন্দ্র থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা এরাজ্যে আসছে। দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, ওনারা এখান থেকে দিল্লি পর্যন্ত একটা লংমার্চ করতে পারেন, ওনারা হাঁটতে হাঁটতে যাবেন আর আমরা মাঝখানে জল খাওয়াবো। একশো দিনের কাজের প্রকল্পে এই রাজ্য সবচেয়ে বেশি টাকা পায়, আর সবচেয়ে বেশি লুটে খায় এখানেই। তাতেও পেট ভরছে না, তাই আরও চাই।
মেদিনীপুরের সাংসদ বলেন, কেশিয়াড়িতে আবাস যোজনায় একটা পঞ্চায়েতে সাড়ে চারশো জনের নাম পাল্টে দেওয়া হয়েছে। দিল্লি থেকে আবাস যোজনার উপভোক্তাদের নামের যে তালিকা পাঠানো হয়েছে সেখানে নাম পাল্টে অন্যজনের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গরিব আদিবাসী মানুষরা বঞ্চিত হচ্ছে। এইসব দুর্নীতি আগে বন্ধ হওয়া দরকার। সেইজন্য আমরাও কেন্দ্রে গিয়ে বলবো আগে হিসাব নিন, তারপর টাকা দিন। গতকাল পুরুলিয়াতে দুর্নীতি ইস্যুতে প্রশাসনিক আধিকারিকদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধমকানি প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, দুর্নীতি আমরা দেখছি, দুর্নীতির কথা আমরা বলছি। সাধারণ মানুষ ওদের ভয়ে কিছু বলছে না। মুখ খুললেই কেস দেবে, পুলিশ দিয়ে পেটাবে, গুন্ডা দিয়ে ধমকাবে। তাই তারা আমাদের কাছে সেসব বলে। মুখ্যমন্ত্রীও সেটা মেনে নিয়েছেন। অথচ এদিকে বলছেন কোনো দুর্নীতি নেই। অফিসার থেকে নেতা নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রতিনিধি সবাই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। উনি সমাধান করুন। ওনাকে মানুষ দায়িত্ব দিয়েছে। উনি মুখ্যমন্ত্রী। উনি জানার পরেও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না মানে তার পার্টির লোকেরা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত আছে।

