বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের প্রাক্কালে বাঁকুড়া লাইফ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির অঙ্গীকার

আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৩ ফেব্রুয়ারি: শুক্রবারের বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের প্রাক্কালে ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির আন্দোলনে নামার অঙ্গীকার করল বাঁকুড়া লাইফ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। সেই সঙ্গে বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ক্যান্সার চিকিৎসার পরিকাঠামো তৈরির জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি তুলেছে ওই সংগঠন।

সংগঠনের সভাপতি সন্তোষ ভট্টাচার্য এবং সম্পাদক
আলোক মণ্ডল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানান, “বর্তমান বর্ষে থিমকে সামনে রেখে আমাদের সংগঠন সবসময় ক্যান্সার আক্রান্ত ও তাঁর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস যেমন দিচ্ছে তেমনি ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা প্রচার অভিযান চালিয়ে যাবে।
শাক সবজিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সারের ব্যবহার ক্যান্সারের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়। সেই কারণে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে সংযমী হতে হবে।

এবারের বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে আমাদের দাবি হল, বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ ছাড়াও বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতাল, খাতড়া মহকুমা হাসপাতাল ও অন্য সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেও ক্যান্সার চিকিৎসার কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, রেডিয়েশনের জন্য অত্যাধুনিক লিনিয়ার এক্সিলেটার মেশিন ও মোমোগ্রাফি মেশিন বসাতে হবে।

শুধু টেকনিশিয়ান নয় অঙ্কো মেডিসিনের চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রেডিয়েশন দিতে হবে।
ক্যান্সার মানে নো অ্যানসার সেকথা বলার দিন আর নেই। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসা পেলে আর পাঁচটা রোগের মতোই ক্যান্সারও সেরে যায়। তবে অবশ্যই ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা। সরকারি হাসপাতালে নিখরচায় ক্যান্সার চিকিৎসা পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের রাজ্যে সব সরকারি হাসপাতালে ঠিকমতো পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি।

আজকের দিনে ক্যান্সার আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসার সঠিক দিশা দেখানো এবং ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কিছু বিষয় পালন জরুরি। বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিয়ে আমাদের সংগঠন বিভিন্ন সময় পাড়ায় পাড়ায় এবং বিদ্যালয়ে শিবির করে সচেতনতা প্রচার করে। কিভাবে নিজে নিজেই স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতন থাকা যায় তার পরামর্শ দিয়ে থাকেন আমাদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা।

যেহেতু ক্যান্সার রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর অনেক সাধারণ রোগের সঙ্গে মিল রয়েছে সেজন্য ক্যান্সারের কারণ সম্বন্ধে এখনও নিশ্চিত কিছু বলা যাবে না। তবে মাদক দ্রব্য যেমন গুঠখা, খৈনি, তামাকজাত দ্রব্য, মদ, অত্যধিক ফাস্টফুড ইত্যাদির ব্যবহার ক্যান্সার রোগ ডেকে আনে বলে বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন।

ক্যান।সার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পুস্তিকা প্রকাশ লিফলেট বিতরণ সহ নানা কাজ নিয়মিত করে এই সংগঠন। পুস্তিকায় সারা দেশের ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্রের হদিশ, ফোন নং, থাকার জায়গা সব কিছুর বিস্তারিত খোঁজ খবর দেওয়া আছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। সম্পাদক আলোক মণ্ডল নিজে বিগত তিরিশ বছর ধরে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়ী হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *