আমাদের ভারত, ৬ জানুয়ারি: রাজ্যে করোনার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। মা নিয়ে বৃহস্পতিবার উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বাড়িতে কারো করোনা হলে বাকিরা সতর্ক থাকুন। আগামী ১৫ দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী সতর্কবার্তাও দেন। তিনি জানান করোনা না কমলে আরও কড়া বিধি-নিষেধ লাগু করতে পারে সরকার।
বছরের শুরুতেই ভয় ধরিয়েছে করোনার নতুন ভেরিয়েন্ট ওমিক্রন। হু হু করে বাড়ছে রাজ্যে করোনা সংক্রমিত সংখ্যা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত নতুন করে একাধিক বিধি-নিষেধ জারি করা হয়েছে রাজ্যে। কিন্তু তবুও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। ক্রমশ পরিস্থিতি ভয়াবহ হচ্ছে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কড়া কোভিড বিধিনিষেধ জারি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার একটি ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছেন। মাস্ক ব্যবহার প্রায় বাধ্যতামূলক হতে চলেছে। এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য “মাস্ক কম্পালসারি, হাতে গ্লাভস বা স্যানিটাইজার। মেয়েরা চুল ঢাকুন। মাস্ক-স্যানিটাইজার মাস্ট”। তার কথায়, “প্রশাসন জোর করে মাস্ক পড়াতে পারবে না। নিজেরা দয়া করে মাক্সটা পড়ুন। পুলিশকেও বলছি এবার একটু কড়া হাতে এসবের মোকাবিলা করুন। এই মুহূর্তে বাড়িতে কেউ করোনা আক্রান্ত হলে সে পরিবারের বাকি সদস্যরা কম মেলামেশা করুক।” একান্ত প্রয়োজন না হলে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওয়ার্ক ফ্রম হোমেও জোর দিয়েছেন তিনি।
হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ। এই পরিস্থিতি ট্রেন চলাচল প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ট্রেন বন্ধ করে দিলে প্রচুর মানুষের অসুবিধা হবে। আবার ট্রেন চালু রাখলে সবাই গাদাগাদি করে যাবে। তাহলে আমরা কি করব। এগোবো না পিছোবো?মানুষের রুটিরুজি বন্ধ হয়ে যাক এটা তো হতে পারে না। তাই বলছি আপনারা নিজেরা মাস্ক পড়ুন সতর্ক হয়ে চলাফেরা করুন”। তারপরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন,” এসবে যদি সংক্রমণ না কমে তাহলে আরো কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে আমাদের।
এতেই ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের ধারণা ১৫ জানুয়ারির পর থেকে আরও কড়া বিধি-নিষেধ জারি হতে পারে রাজ্যে। কর্মক্ষেত্রে ওয়ার্ক ফর্ম হোমে জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি নিজেও অফিসে যাচ্ছেন না। বাড়ি থেকে কাজ করছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুক্রবার রাজ্যে একটি ক্যান্সার হাসপাতালের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসবেন প্রধানমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী নিজে কালীঘাটের বাড়ি থেকেই ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন। সেখান থেকে ভার্চুয়ালি তাদের মধ্যে কথাবার্তা হতে পারে।

