আমাদের ভারত, ৩ জুলাই: দু’ মাস হলো রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়েছে। তার মধ্যেই বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বড় খবর দিলেন নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিউটাউনের আদানি হেলথ সিটির ব্যাপারে আলোচনা ইতিমধ্যে অনেকটাই এগিয়ে গেছে। এবার রাজ্যে আরও দুটি বড়সড় শিল্পে বিনিয়োগের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সব ঠিক থাকলে খুব শিঘ্রই রাজ্যে আসতে চলেছে আরো ২১০০ কোটি টাকার মেগা বিনিয়োগ।
শুক্রবার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে পার্শ্ব আলোচনায় এই বড় খবরের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। খুব দ্রুত গতিতে রাজ্যে দুটি বড় লগ্নির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে চলেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
৬০০ কোটির হোসিয়ারী শিল্প কারখানা হতে চলেছে রাজ্যে। এটি মূলত একটি শ্রম নিবিড় উৎপাদন শিল্প হওয়ায় রাজ্যের বহু মানুষের কর্মসংস্থানে সুযোগ তৈরি হবে।
পাশাপাশি রাজ্যে ভারী শিল্পের খরাও কাটতে চলেছে। প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি অত্যাধুনিক ইস্পাত বা স্টিল কারখানা গড়ার প্রস্তাব ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন শুধু এই দুটি প্রকল্প নয়, চলতি বছরের মধ্যে আরও বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ঘোষণা করা হবে। তবে তার আগে রাজ্যে একটি ত্রুটিহীন এবং স্পষ্ট শিল্প- বান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে চাইছে সরকার।
শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের নেতৃত্বে ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভার একটি বিশেষ ক্যাবিনেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি তৈরি করেছে রাজ্যের নয়া শিল্পনীতি। শোনা যাচ্ছে সেপ্টেম্বরে নতুন সরকারের প্রথম শিল্প সম্মেলন বা বিজনেস সামিট আয়োজিত হতে পারে। সেখানেই এই নয়া শিল্পনীতি প্রকাশ করা হবে।
আজকের আলোচনায় সিঙ্গুর তথা টাটা প্রসঙ্গ উঠে এলেও সে ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, সিঙ্গুরের কৃষকদের জমি আগের সরকার ফিরিয়ে দিয়েছিল কিন্তু বর্তমান কৃষকরা সেখানে শিল্পের জন্য জমি দিতে অত্যন্ত আগ্রহী। টাটাকে ওখানেই জমি দেওয়া হবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনও স্থির না হলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার চাইছে টাটা গোষ্ঠী যেন রাজ্যে একটি আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট এবং ডেটা সেন্টার গড়ে তোলে। এই বিষয়ে আগামী দিনে টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে নবান্নে সরাসরি আলোচনায় বসবে বলেও জানান তিনি।
টাটা অসমে ইতিমধ্যেই ২৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করে একটি অত্যাধুনিক সেমিকন্ডাক্টর আ্যসেম্বলি ও টেস্ট কারখানা তৈরি করছে। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৭ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সেমি কনডাক্টর ইন্ডিয়া প্রোগ্রামের আওতায় এই প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
বাংলায় সেমিকন্ডাক্টর কারখানার জন্য ঠিক একই রকম বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করছেন শুভেন্দু অধিকারী ও তার মন্ত্রিসভা। আদানিদের হাসপাতালের পর টেক্সটাইল এবং ভারী ইস্পাত শিল্প, সবমিলিয়ে সরকার গঠনের মাত্র দু’মাসের মাথায় পর পর তিনটি বড় লগ্নির সম্ভাবনা তৈরি করে বাংলায় বিনিয়োগের নতুন অধ্যায়ের সূচনার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী সরকার।

