আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ২৯ ডিসেম্বর: কোপাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল শান্তিনিকেতন থানার সর্বানন্দপুর গ্রামে। প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করেন গ্রামের মানুষ। আধাঘণ্টা অবরোধ চলার পর পুলিশি আশ্বাসে অবরোধ উঠে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোপাই নদীতে আলবাঁধা–সর্পলেহন গ্রাম পঞ্চায়েতের সর্বানন্দপুর গ্রামে একটি অবৈধ বালির ঘাট রয়েছে। ওই ঘাট থেকে কঙ্কালিতলা অঞ্চলের কিছু দুষ্কৃতী দিনরাত বালি তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। এদিন তারই প্রতিবাদ করেন সর্বানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দারা। প্রতিবাদে তাঁরা দুপুরের দিকে বোলপুর–আমোদপুর রাস্তা অবরোধ করে রাখে। আলবাঁধা–সর্পলেহন গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান দীননাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের এলাকায় বালির ঘাট রয়েছে। কিন্তু কঙ্কালিতলা এলাকার কিছু মানুষ অবৈধভাবে বালি তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের লোকজন প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁরা গ্রামবাসীদের মারধর করে। তাই গ্রামবাসীরা পথ অবরোধ করেছিলেন। পরে আমরা দলীয় নেতৃত্ব এবং পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিই”।
গ্রামের বাসিন্দা মমতা রায় বলেন, “কঙ্কালিতলা গ্রামের কিছু মানুষ অবৈধভাবে বালি তুলছিল। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে আমার দেওয়রকে মারধর করে। ওদের হাতে রিভালবার, বোম, লাঠিসোঁটা ছিল। জোর করে বালি তুলছিল”।
গ্রামের বাসিন্দা ঊর্মি রায় বলেন, “আমাদের পঞ্চায়েত এলাকার বালি আমরা অন্য কাউকে তুলতে দেবো না। কারণ ওই বালি তুলে আমরা গ্রামে দুর্গা মন্দির গড়ছি। গ্রামে পুজো, কীর্তন করে থাকি। তাছাড়া আমরা গ্রামে যারা পাকা বাড়ি নির্মাণ করি তারা ওই বালি তুলে নিয়ে যাই। কিন্তু কঙ্কালিতলা গ্রামের কিছু মানুষ অবৈধভাবে বালি তুলে নিয়ে যাচ্ছে”। খবর পেয়ে সেখানে যান শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ। বালির ঘাটে দিনরাত পুলিশ মোতায়েনের আশ্বাস দেওয়ায় অবরোধ উঠে যায়।

