প্রেসিডেন্সির কলেজ ষ্ট্রিট ক্যাম্পাসে দু’দল পড়ুয়ার মধ্যে ধ্বস্তাধ্বস্তি

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, কলকাতা, ১৫ ফেব্রুয়ারি: মঙ্গলবার প্রেসিডেন্সির কলেজ ষ্ট্রিট ক্যাম্পাসে দু’দল পড়ুয়ার মধ্যে ধ্বস্তাধ্বস্তি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়।

এ দিন ‘ইন্ডিপেন্ডেন্টস কনসোলিডেশন’ (আইসি)-এর
আহ্বায়ক তথা প্রেসিডেন্সির অর্থনীতির স্নাতকোত্তরের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া অহন কর্মকার এই প্রতিবেদককে জানান, “কিছুক্ষন আগে, তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদের গুন্ডারা ক্যাম্পাসের প্রাঙ্গণে আইসির পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। আমাদের বোর্ড ফেলে দেয়। বোর্ডে লেখা ছিল ‘আমাদের প্রেসিডেন্সিতে বেকার-ভাঙা শিক্ষাবিরোধী স্বৈরাচারী তৃণমূলের জায়গা নেই’। আইসি-র কমরেডরা প্রতিরোধ করলে, তৃণমূলের গুন্ডারা তাদের উপর চড়াও হয়। হাত ওঠে আইসির কমরেডদের গায়ে। কমরেডদের প্রতিরোধে আপাতত তৃণমূল পিছু হঠতে বাধ্য হয়।

কিন্তু এরপর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস গেটের বাইরে বহিরাগত যুবকদের জমায়েত তৈরি করে। তাদের মুখে স্লোগান “আইসির চামড়া, গুটিয়ে নেব আমরা”। ক্যাম্পাসের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা অত্যন্ত শঙ্কিত হয়ে পড়ে। কিন্তু প্রেসিডেন্সির ছাত্রছাত্রীরাও রুখে দাঁড়াতে প্রস্তুত, এই বার্তা পরিষ্কার।“

অপর এক সমর্থক সৌরভ চট্টোপাধ্যায় এই প্রতিবেদককে বলেন, “প্রেসিডেন্সিতে তৃণমূলের গুন্ডামি। ক্যাম্পাসে ঢুকেই তারা প্রেসিডেন্সির পড়ুয়াদের মঞ্চ আইসি-র স্লোগান লেখা বোর্ড তুলে ফেলে দিতে উদ্যত হয়। আইসির সমর্থকরা বাধা দিতে গেলে ধ্বস্তাধস্তি হয়।“

প্রেসিডেন্সির আইসি-র কৌশানি জানান, “মেয়েদের প্রতি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ, এবং গালিগালাজ করছে তৃণমূলের গুন্ডারা। এ ছাড়া মেয়েদের অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করছে তারা।“

তৃণমূল বিক্ষোভকারীদের প্রথম সারিতে ছিলেন সুপ্রিয় চন্দ। কেন এই অশান্তি, এ দিন বেলা সাড়ে চারটায় তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে জানতে চাওয়া হয়। ৫টা ৭-এ তিনি সম্মতিজ্ঞাপক উত্তর দিলেও জবাব আসেনি। সন্ধ্যা প্রায় সাতটা পর্যন্ত একাধিকবার তাঁকে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও যোগাযোগ করা যায়নি। ফোনের সংযোগ ছিল বন্ধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *