CM, Mohoboni, বীর বিপ্লবীর পূর্ণ জন্মভূমি মোহবনিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১০ আগস্ট: বীর শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর জন্মভিটে কেশপুরের মোহবনি। ১১ আগস্ট ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবস। প্রতিবছরই শ্রদ্ধার সঙ্গে দিনটি পালিত হয় তাঁর জন্মভূমিতে। এবছর সেই অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আসছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর কদমে প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে মোহবনিতে। খুশি মোহবনি এলাকার বাসিন্দারাও।

এই প্রথম রাজ্যের কোনও মুখ্যমন্ত্রী মোহবনিতে আসছেন। এটা মোহবনিবাসীর কাছে বড় পাওনা, আনন্দের বিষয়।তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার মোহবনিতে আসার কথা থাকলেও এর আগে একাধিকবার এই গ্রামে এসেছেন তিনি। ২০১১ সালে সাংসদ থাকাকালীন মোহবনিতে ‘ক্ষুদিরামে কিছুক্ষণ’ নামে একটি প্রতীক্ষালয়ের উদ্বোধন করেছিলেন। সাংসদ ও রাজ্যের মন্ত্রী থাকাকালীন মোহবনির উন্নয়নের জন্য অর্থ সাহায্য এবং অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার কথা জানান শান্তি বসু। এবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর আগমন ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত মোহবনির বাসিন্দারা। শহিদের জন্মভূমি ক্ষুদিরাম বসুর জন্মস্থান মোহবনিকে ইতিমধ্যেই পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রয়েছে শহিদের সুন্দর পূর্ণাবয়ব মূর্তি। পাশেই রয়েছে ‘শহিদ ক্ষুদিরাম স্মৃতি পাঠাগার’। রয়েছে সাংস্কৃতিক মঞ্চ, তার সামনে বড় মাঠ এবং ইনডোর সাংস্কৃতিক মঞ্চ। পর্যটকদের বসার জন্য রয়েছে আলাদা ঘর। গাছপালা দিয়ে সাজানো হয়েছে গোটা এলাকা। রাস্তার পাশেই রয়েছে ‘শহিদ ক্ষুদিরাম বসু স্মৃতি ইকোপার্ক’।

পূর্বতন সরকারের সময় মোহবনির ক্ষুদিরামের জন্মস্থানকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। কেশপুর ব্লক প্রশাসনের অধীনে বিভিন্ন সময়ে এই এলাকায় উন্নয়নের কাজ হয়েছে। এবার ১১ আগস্টের অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে গোটা এলাকা। সাংস্কৃতিক মঞ্চের সামনে তৈরি হচ্ছে বিশাল প্যান্ডেল। সীমানা প্রাচীর, সাংস্কৃতিক মঞ্চ, পতাকা বেদী এবং মূল প্রবেশদ্বার সাজানো হচ্ছে। কোথাও গেরুয়া ও সাদা রঙের প্রলেপ, কোথাও পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। আগাছা ও জঞ্জাল সরিয়ে ঝকঝকে করে তোলা হচ্ছে শহিদের জন্মভূমি। মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতাও তুঙ্গে। দফায় দফায় এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রশাসনিক কর্তারা। কয়েকদিন আগেই মোহবনি পরিদর্শন করেছেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা- সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

ক্ষুদিরাম বসুর জন্মস্থান গোটা বাংলার মানুষের কাছে আবেগ ও গর্বের স্থান। প্রতি বছর ১১ আগস্ট আত্মবলিদান দিবসে বহু মানুষ এখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। ফলে পর্যটন ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে মোহবনির পরিকাঠামো আরও উন্নত করার দাবি দীর্ঘদিনের। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে মোহবনির পাশেই বানানো হয়েছে অস্থায়ী হেলিপ্যাড।

প্রশাসন সূত্রের খবর, বাঁকুড়ার প্রশাসনিক সভা শেষে হেলিকপ্টার করে র‌ওনা দেবেন পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহবনির উদ্দেশ্যে। পাশেই বানানো হয়েছে অস্থায়ী হেলিপ্যাড। এই অস্থায়ী হেলিপ্যাড ঘুরে দেখেন জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *