পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১০ আগস্ট: বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলক্ষে পশ্চিম মেদিনীপুরের খাস জঙ্গলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আদিবাসী সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারে রাজ্য সরকারের কাছে একাধিক দাবি জানালেন বিজেপি নেত্রী তথা প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক ভারতী ঘোষ। বিশেষ করে আদিবাসী ছাত্র- ছাত্রীদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং অলচিকি লিপিতে পঠন- পাঠনের উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার উপর জোর দেন তিনি।
এদিনের অনুষ্ঠানে ভারতী ঘোষকে ঘিরে আদিবাসী সমাজের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ- উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে তিনি ধামসা- মাদলের তালে বেশ কিছুক্ষণ নাচেও অংশ নেন। তাঁর এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ তৈরি করে।

অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন ভারতী ঘোষ। সেখানেই তিনি আদিবাসী সমাজের শিক্ষা ও উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেন।
ভারতী ঘোষের দাবি, আদিবাসী সমাজের কল্যাণ এবং বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজ্যের তৃণমূল সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদিবাসী ছাত্র- ছাত্রীদের জন্য ৯০০টি স্কুল খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ তো দূরের কথা, ৯০টি স্কুলও তৈরি হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অলচিকি লিপিতে পঠন- পাঠনের বিষয়টিও এদিন বিশেষভাবে তুলে ধরেন বিজেপি নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, আদিবাসী সমাজের নিজস্ব লিপি অলচিকিতে শিক্ষার প্রসারের জন্য যে ধরনের পরিকাঠামো, শিক্ষক ও শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন, তা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তৃণমূল সরকার যথেষ্ট উদ্যোগী হয়নি। ফলে আদিবাসী ছাত্র- ছাত্রীদের একটি বড় অংশ শিক্ষার ক্ষেত্রে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ভারতী ঘোষ বলেন, “আদিবাসী সমাজের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য শুধু প্রতিশ্রুতি দিলে হবে না, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ণ করতে হবে। বিশেষ করে আদিবাসী ছেলে- মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে এবং অলচিকি লিপিতে পঠন- পাঠনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।”
বর্তমানে রাজ্যে সরকারের পরিবর্তন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের কাছে আদিবাসী শিক্ষার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ করার আবেদন জানান। তাঁর দাবি, আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে পর্যাপ্ত স্কুল, শিক্ষক, শিক্ষার পরিকাঠামো এবং অলচিকি লিপিতে পঠন- পাঠনের উপযুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক।
তিনি আরও বলেন, আদিবাসী সমাজের উন্নয়নকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক পরিকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে তাঁদের স্বনির্ভর করে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের আদিবাসী ছাত্র- ছাত্রীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাই আগামী দিনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
এদিনের বিশ্ব আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতী ঘোষের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আদিবাসী সমাজের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বক্তব্যের পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে মিশে গিয়ে ধামসা- মাদলের তালে পা মেলানোয় অনুষ্ঠানের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। আদিবাসী সমাজের শিক্ষা ও উন্নয়নের দাবিকে সামনে রেখে এদিনের অনুষ্ঠান থেকেই রাজ্য সরকারের কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন বিজেপি নেত্রী।

