“কানমলা খাওয়া উচিত”, বাঁকুড়ায় সরকারি কাজে গাফিলতিতে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীর নিদান

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৩১ মে: কানমলা খাওয়া উচিত “সরকারি কাজে গাফিলতিতে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীদের এই নিদান দেন। আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাঁকুড়ার রবীন্দ্রভবনে প্রশাসনিক বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকেই সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত হয়ে পড়ে আছে। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি কাজের টেন্ডারে দুর্নীতি, কোথাও স্বজন পোষণের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি এই মন্তব্য করেন।

২০১৬ সালে এক প্রকল্পের কাজ আজও শেষ হয়নি, ২০১৮ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও এখনও তা অসমাপ্ত এই তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, কেন এমন হবে জানতে চাইলে বলা হচ্ছে আন্ডার প্রসেসিং। একটা প্রকল্প ছ’ বছর পরেও বলা হচ্ছে আন্ডার প্রসেসিং!
এপ্রসঙ্গে তিনি বিরক্তির সুরে বলেন, মুকুটমণিপুরে সাংস্কৃতিক ভবন গড়ে তোলার কথা, সেটা ২০১৭ সালে ঘোষণা করা হয়, আজও তা মাথা তুলে দাঁড়ায়নি। জেলা পরিষদের বিভিন্ন টেন্ডারে দুর্নীতি, স্বজন পোষনের অভিযোগ পেয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি কার্যত ভর্ৎসনা করেন জেলা সভাধিপতিকে। সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি। এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকেই ৩৮০ কোটি টাকা অর্থমূল্যের ৭৬টি জনমুখী প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন তিনি।

বাঁকুড়ার জেলা শাসক কে রাধিকা আইয়র এদিন
জেলার মোট ২১২টি বিএসকে সেন্টারের কথা তুলে ধরেন, বাঁকুড়ার তালডাংরাতে মাটির সৃষ্টি প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। ১০০ দিনের কাজে কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৫ থেকে ৭ মাস এই প্রকল্পে কোনো টাকা বরাদ্দ করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। সভাতে মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন ধর্মের রিলিজিয়াস ট্যুরিজমের কথা তুলে ধরতে গিয়ে জয়রামবাটি কামারপুকুর থেকে বিষ্ণুপুর থেকে মুকুটমণিপুর এবং বিভিন্ন জৈন মন্দিরের প্রসঙ্গ তুলে তুলে ধরেন।

বাঁকুড়ার বালুচরী ও ডোকরা শিল্পের প্রশংসা করেন। তারমধ্যে বালুচরী জিআই স্বীকৃতি পেলেও এখনো জিআই স্বীকৃতি পায়নি ডোকরা শিল্প। এটা যাতে জিআই স্বীকৃতি পায় তার বন্দোবস্ত করতে অফিসারদের নির্দেশ দেন। এর পরেই সভায় উপস্থিত অফিসারদের থেকে একজন বলেন, এমএসএমই প্রকল্প থেকে ডোকরা জিআই স্বীকৃতি লাভ করেছে। বাঁকুড়ার কাঠের ঘোড়া শিল্পের বিশেষ প্রশংসা করেন। এরপরে হোম ট্যুরিজমের প্রসঙ্গ উঠে আসে। এখানে বাথরুম সম্পর্কিত সমস্যার কথা উঠে আসে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। অটল বিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী থাকার সময়, তিনি একবার আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটা হোটেলে উঠেছিলেন। সেই হোটেলে কোনো মগ বালতি কিছু ছিল না। তাতে তিনি দমে যাননি। তিনি হোটেলের রান্নাঘরে গিয়ে একটি সসপেন দিয়ে বাথরুমের প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সেরে নেন। মাটি সৃষ্টি প্রকল্পে হোম ট্যুরিজিম প্রকল্পটিকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *