লক্ষ্য দিল্লির মসনদ! ‘২০২৪-এ নো এন্ট্রি ফর বিজেপি’ মমতার স্লোগান পুরুলিয়ার কর্মিসভায়

সাথী প্রামানিক, পুরুলিয়া, ৩১ মে: পঞ্চায়েত ভোটের পাশাপাশি ২০২৪ এর লোকসভা ভোটের প্রচারে নেমে পড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত লোকসভা নির্বাচনেও দিল্লি দখলের স্লোগান তুলেছিলেন, কিন্তু লক্ষ্য পূরণ হয়নি। তাই এবার অনেক আগে থেকেই দিল্লি দখলের জন্য নেমে পড়লেন তিনি। আজ পুরুলিয়ার কর্মিসভায় এই বার্তা দিলেন তিনি।

“২০২৪-এ নো এন্ট্রি ফর বিজেপি। জনগণ তোমাদের জানিয়ে দিয়েছে ২০২৪ সালে বিজেপি কেন্দ্রে আসছে না।” এই ভাষাতেই বিজেপিকে সরিয়ে কেন্দ্র দখলের দাবিদার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ পুরুলিয়ায় দলীয় কর্মিসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন জাতীয় বিষয় তুলে ধরে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের দিকে তোপ দাগেন সর্বভারতীয় তৃণমূল সভানেত্রী মমতা। মঞ্চে আগাগোড়া কেন্দ্রের নীতির ও সিদ্ধান্তের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, “দেশটাকে বিক্রি করে দিচ্ছে। কোল ইন্ডিয়া, রেল, ভেল, ব্যাঙ্ক, ইনসিওরেন্স বিক্রি করে দিচ্ছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। ১০০ দিনের কাজের টাকা দিচ্ছে না। আর বড় বড় কথা। আমরা বড় বড় কথা শুনতে রাজি নই।”

এদিন নোট বন্দি ইস্যু তুলে জাতীয় রাজনীতিতে অবিজেপি দলগুলোকে এককাট্টা করার চেষ্টা চালান মমতা। তিনি প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে আক্রমণ করে সেই কৌশল নেন। তিনি বলেন, ডিজেল, পেট্রোল, গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। নোট বন্দি করেছে। সেটা করে বললেন দেশের অর্থনৈতিক সংস্করণ হবে। আর আজকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বলছে ওটা তো সব থেকে বেশি কেলেঙ্কারি। ৫০০ টাকার নোট ১০০ শতাংশই ভেজাল। তাহলে মোদীবাবু কখনও লালু প্রসাদের বাড়িতে সিবিআই পাঠাচ্ছেন, কখনও মহারাষ্ট্রের মন্ত্রীকে গ্রেফতার করছেন, কখনও দিল্লির মন্ত্রীকে গ্রেফতার করছেন। কখনও হেমন্ত সরেনের ঘরে গিয়ে পাকা ধানে মই দিচ্ছেন। সবার জন্য ইডি আছে, সিবিআই আছে।”

দলের নেতা মন্ত্রীদের সিবিআই, ইডির তলব ও জিজ্ঞাসাবাদের প্রতিবাদ করে প্রধান মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, “কয়লা নিজেদের হেফাজতে তবুও কাউকে পাঠাছে কয়লা কেলেঙ্কারিতে, চোর বলছে। কাউকে পাঠাচ্ছেন গরু কেলেঙ্কারিতে। অথচ বিএসএফ আপনার হাতে। এর জন্য দায় বিএসএফের। তাদের কজনকে গ্রেফতার করেছেন?” এবার সুর চড়িয়ে মমতা বলেন, “নোট বন্দি করতে গিয়ে ১০০ শতাংশের বেশি ভেজাল নোট তৈরি হয়েছে। এই কারণে বিজেপি মন্ত্রীদের ঘরে ঘরে সিবিআই, ইডির যাওয়া উচিত এবং সবকটাকে গ্রেফতার করা উচিত। নিজেরা করলে সাত খুন মাপ। আর অন্যের বেলায় বন্ধ ঝাঁপ।”

এই প্রসঙ্গেই দেশের রাজনীতিতে নিজেকে প্রতিবাদী চরিত্র বলে ঘোষণা করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “আজ কারও বুকের পাটা নেই প্রতিবাদ করার। কারও হিম্মত নেই। আমার হিম্মত আছে প্রতিবাদ করার। তার কারণ পুরুলিয়া রূপসী বাংলা আমাকে লড়াই করতে শিখিয়েছে।”

আজ পুরুলিয়া শহরের কাছে শিমুলিয়ার ব্যাটারি গ্রাউন্ডে ওই সভায় উপচে পড়া কর্মী সমর্থকদের উপস্থিতিতে উজ্জীবিত হয়ে পড়েন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় মহিলাদের উপস্থিতি তাঁর নজরে আসে। তাঁদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমাদের লোকজন নিশ্চই কিছু ভুল করেছিল। তার জন্য
এমপি, এমএলএ নির্বাচনে বিজেপিকে ভোটটা দিয়েছিলেন। আমি মনে করি আমাদের কর্মীদের কোনও কাজে আমাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে, অপপ্রচার করে থাকেন তাহলে মানুষ সব দেখতে পাচ্ছেন। বিজেপির এমপি, এমএলএ’র জেতার পরে আর দেখা নেই। বিজেপির আর দেখা নেই। অথচ, রাজ্যের মানুষকে সব রকম সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে আমাদের তৃণমূল সরকার। সবই যদি তৃণমূল সরকার দেয় তাহলে বিজেপি কি ললিপপ খাবে?” কেন্দ্রের উজ্জ্বলা যোজনা নিয়েও সরব হন মমতা। বিনে পয়সার বদলে ৮০০ টাকায় গ্যাস ভরতে বলছে মোদী সরকার। এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে বিজেপিকে। তিনি বলেন, “ভোটের সময় উজ্জ্বলা আর ভোট শেষ হলেই ধোকা। রান্নার গ্যাস বেলুনের মতো বেরিয়ে গেছে। ১০০ দিনের টাকা বিজেপি সরকার দিচ্ছে না। আমাদের গরিবদের টাকা দাও নাহলে ভারতবর্ষ থেকে বিজেপি সরকার বিদায় নাও।”

এদিন সভায় দলের নেতা কর্মীদের জনসংযোগ বাড়িয়ে ভোট ব্যাঙ্ক ফিরিয়ে আনার জন্য সচেষ্ট হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। গাড়ি নয়, সাইকেলে গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের অভাব অভিযোগ পূরণ করার চেষ্টা করার পরামর্শ দেন দলের জনপ্রতিনিধিদের। একই সঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “আগামী দিনে একটা আসনও যেন বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস না পায়।”

আজকের সভা মঞ্চে রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক, মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু, ইন্দ্রনীল সেন, শ্রীকান্ত মাহাতো, দুই বিধায়ক রাজীব লোচন সরেন, সুশান্ত মাহাতো উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক শান্তিরাম মাহাতো, পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া, জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা তৃণমূল নেতা সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ নেতৃত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *