আমাদের ভারত, ১০ নভেম্বর: দেশের প্রতিরক্ষা স্বার্থে চারধাম যাত্রা প্রকল্পে উত্তরাখণ্ডের রাস্তা আরও চওড়া করা প্রয়োজন। এই বিষয়ে দেশের শীর্ষ আদালতের কাছে অনুমতি চাইল কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই রাস্তার অন্য প্রান্তে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে হেলিপ্যাড তৈরি করছে চিন। ফলে নিরাপত্তার কারণেই ওই রাস্তা চওড়া করা দরকার বলে আদালতে সাওয়াল করেছে কেন্দ্র।
কিন্তু, পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে রাস্তা চওড়া করা যাবে না এই মর্মে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলা কারণেই রাস্তা চওড়ার বিষয়ে আদালতের পরামর্শ চেয়েছে কেন্দ্র।
গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী, কেদারনাথ এবং বদ্রিনাথ এই চার স্থানকে যুক্ত করবে ৮৯৯ কিলোমিটারের চারধাম হাইওয়ে তৈরি করতে চাইছে কেন্দ্র। কিন্তু দেরাদুনের কাছে এই অংশের রাস্তাটি চওড়া করার ক্ষেত্রে এর আগে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, রাস্তা কোনভাবেই ৫ মিটারের বেশি চওড়া করা যাবে না। কেন্দ্র চাইছে রাস্তা ১০ মিটার চওড়া করা হোক। কেন্দ্র বলেছে, নিরাপত্তাজনিত কারণেই ওই রাস্তা চওড়া হওয়া দরকার। মামলার শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেনুগোপাল বলেন, “চিন অপরপ্রান্তে হেলিপ্যাড তৈরি করেছে। সুতরাং এই রাস্তা দিয়ে রকেট লঞ্চার ট্যাঙ্ক এসব নিয়ে যাওয়ার দরকার হতে পারে।” তাঁর কথায় আমরা চাই না ১৯৬২ সালের পরিস্থিতিতে পড়তে হোক সেনাকে।”
অন্যদিকে রাস্তা চওড়া করতে না দেওয়ার পক্ষে মামলাকারীদের যুক্তি উত্তরাখণ্ডের ভূমিধসের ঘটনা বাড়ছে। রাস্তা চওড়া করতে গিয়ে আরও গাছ কাটলে পরিবেশের উপর তার খারাপ প্রভাব পড়বে। মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী কলিং গঞ্জালভেস এই বছর ওই এলাকায় হওয়া ভয়াবহ ভূমিধসের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষার চেয়েও পরিবেশজনিত প্রয়োজনীয়তাকে এগিয়ে রাখছি না। কিন্তু সেনা তো কখনো বলেনি রাস্তা চওড়া করতে চায়।”
কিন্তু আদালত জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা সব সময় গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নের প্রয়োজন আছে সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় অনেক ঘটনা ঘটেছে। ১৯৬২-র মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে দেশ সেটা কখনোই কাম্য নয়। তবে দেশের নিরাপত্তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমন পরিবেশ রক্ষার দিকটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

