সংযত হন, মুখ খুলবেন না সংবাদ মাধ্যমের সামনে, দিলীপ ঘোষকে সর্তক করে চিঠি পাঠাল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব

আমাদের ভারত, ৩১ মে: সংবাদমাধ্যমের সামনে সংযত হন। দিলীপ ঘোষকে এভাবেই সতর্ক করে চিঠি পাঠাল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এই চিঠি পাঠিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিং।

গত শনিবার একটি সংবাদমাধ্যমের ফেসবুক এবং ইউটিউবের একটি চ্যাট শোয়ে বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। যেগুলিকে দল বিরোধী বলে মনে করছেন অনেকেই। এরফলে দলের ভাবমূর্তিও নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। এরপরই প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতিকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করলেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে যথেষ্ট কড়া ভাষায় লেখা চিঠি পাঠানো হয় দিলীপ ঘোষকে। সেই চিঠিতে তাকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে, সংযত থাকতে বলা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, “এর আগে অনেকবার আপনাকে সতর্ক করা হলেও কোনো লাভ হয়নি। আপনার একাধিক মন্তব্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। তাই আপাতত সংবাদমাধ্যমের সামনে আপনি মুখ খুলতে পারবেন না।”

জানাগেছে, দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার নির্দেশেই দিলীপ ঘোষকে এই সতর্কীকরণ চিঠি পাঠিয়েছেন অরুণ সিং। চিঠিতে লেখা হয়েছে, দিলীপ ঘোষের বেশকিছু বিবৃতি এবং মন্তব্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাজ্য নেতৃত্ব। তার মন্তব্যের জন্য বিড়ম্বনায় পড়েছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তার কথায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

শনিবার ওই সংবাদমাধ্যমে দিলীপ ঘোষ একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ। তিনি ভোট পরবর্তী হিংসায় শুধু সিবিআই তদন্ত নয়, ফল দাবি করেছেন। আবারও তিনি রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে অনভিজ্ঞ বলেছেন। তার কথায়, “এখনো বলছি সুকান্তর অভিজ্ঞতা কম।” বিরোধী দলনেতা সম্পর্কে তিনি বলেছেন, “শুভেন্দুর সঙ্গে আমার সম্পর্ক কোনওদিনই ঘনিষ্ঠ ছিল না।” বাবুল সুপ্রিয় সম্পর্কে তিনি বলেন, “বাবুলকে সাফ বলেছিলাম এটা বিজেপি এখানে ওসব চলবে না।”

যে মন্তব্যের জন্য তাকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছিল সেই রগড়ে দেবার কথাও শনিবার তিনি ফের বলেন। তার কথায়, “রগড়ে দেবো বলেছিলাম এখনো বলছি সুযোগ পেলেই রগড়ে দেবো। শিল্পীরা রাজনীতিতে ফিট নয়।”

তিনি দাবি করেছেন, তার আমলেই পঞ্চায়েত ভোট থেকে লোকসভা ভোটে সাফল্য এসেছিল। আর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ফল আশানুরূপ না হবার জন্য তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দিকেও আঙ্গুল তুলেছেন। নিজের বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবার ইচ্ছের কথাও ঘুরিয়ে বলেছেন। বিধানসভা ভোটে বিজেপির ভালো ফল না হবার জন্য তিনি পরিকল্পনায় ত্রুটি ছিল বলে জানিয়েছিলেন। তিনি সরাসরি বলেছেন, “আমরা মানুষের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প দিতে পারিনি।”

তৃণমূলের যারা বিজেপিতে এসে আবার তৃণমূলে ফিরে গেছেন, সেবিষয়ে ঘুরিয়ে দিল্লির নেতাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “যারা দিল্লি গিয়ে যোগ দিয়েছিলেন তারা প্রায় সকলেই চলে গিয়েছেন, দিল্লির জল হাওয়া সকলের হজম হয় না। আমি সেইজন্য দিল্লি কম যেতাম।”

ফলে বলাবাহুল্য দিলীপের করা এইসব বিভিন্ন মন্তব্য দলের ভাবমূর্তিতে আঘাত করেছে। এর আগেও বিতর্কিত মন্তব্য করার জন্য একাধিকবার তাঁকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু অনেকের মতে শনিবার সংবাদমাধ্যমে সামনে তিনি যা বলেছেন সেটা সব সীমা অতিক্রম করেছে। তাই সংবাদ মাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্য করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সতর্ক করল।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে বিজেপি রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি করা হয় দিলীপ ঘোষকে। দলের নিয়ম অনুযায়ী তার সভাপতি থাকার মেয়াদ ফুরিয়ে ছিল। কিন্তু তার পর থেকেই একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন দিলীপ ঘোষ, বলে অভিযোগ উঠেছে। চলতি মাসে তাকে আটটি রাজ্যের সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর তিনি আবারও সংবাদ মাধ্যমের সামনে দলের অভ্যন্তরের কথা বলেন। যার ফলে নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে। সর্বপরি দলের সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল ব্যখ্যা পৌঁছেছে।

অনেকেই মনে করেছেন সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক নির্বাচনে বিজেপির আশানুরূপ ফল না হবার কারণ এই দল বিরোধী মন্তব্য। যেটা ভোটদাতাদেরও দল সম্পর্কে বিভ্রান্ত করেছে। দলের একটা বড় অংশের মতে ক্ষোভ বিক্ষোভ থাকতেই পারে কিন্তু সেটা প্রকাশ্যে বললে দলের বিরোধিতার নামান্তর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *