Amit Shah, BJP, ভোটের পরেও রাজ্যে দু’মাস থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী, শাহ’র ঘোষণা ঘিরে শুরু হয়েছে সরকার গঠনের নয়া জল্পনা

আমাদের ভারত, ২৮ এপ্রিল: ভোট গণনা মিটে যাওয়ার পরেও অন্তত ৬০ দিন রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী থেকে যাবে। এমনটাই জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরেও বেশ কিছুদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে মোতায়েন ছিল। তবে এবার সেই সময়সীমা বেড়ে দু’মাস করা হচ্ছে বলে ঘোষণা করেছেন অমিত শাহ। ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে তথা আইন-শৃঙ্খলা বহাল রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দু’মাস পশ্চিমবঙ্গে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত উস্কে দিয়েছে সরকার গঠন নিয়ে নয়া জল্পনা।

এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা হতেই প্রশ্ন উঠেছে, বিজেপি যদি সরকার গড়তে না পারে, সে ক্ষেত্রে কি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণা তৃণমূল সরকার মেনে নেবে? কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ৬০ দিন কি রাজ্যে থাকতে দেবে? সে প্রশ্ন ঘিরছ শুরু হয়েছে নানা জল্পনা, কারণ আইন- শৃঙ্খলা রাজ্যের এক্তিয়ারে থাকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাহিনী রাখার বিষয়ে আগাম ঘোষণা করে শাহ পরোক্ষভাবে কি এই বার্তাই দিতে চাইলেন যে বিজেপিই সরকার গড়তে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরেও কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে বাহিনী মোতায়েন রাখার সময়সীমা বাড়িয়ে নিয়েছিল বিজেপি। এবার এখনো কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকার সময়সীমার বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের অবকাশ ঘটেনি, কারণ অমিত শাহ প্রকাশ্য মঞ্চ থেকেই ঘোষণাটি করেছেন। নির্বাচন কমিশনার তার বিরোধিতা করেননি। কিন্তু যদি তৃণমূল ক্ষমতায় ফেরে তাহলে বাহিনী মোতায়েন রাখার ঘোষণা নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ক্ষমতায় যে বিজেপি আসছে তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। তবুও আমরা বাহিনী মোতায়েন রাখবো, কারণ আমরা হিংসায় বিশ্বাসী নই। হেরে যাওয়ার পরে তৃণমূল কর্মীরা হিংসার শিকার হন, আমরা তাও চাই না। কেন্দ্রীয় বাহিনী ৬০ দিন ধরেই মোতায়েন রাখা হবে।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও হিংসা আটকাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দু’মাস রেখে দেওয়ার ভাবনা সম্পর্কে অনেকেরই আপত্তি নেই। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে বিজেপি যদি জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়, তাহলে তো এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত যে ৪মে ফল ঘোষণা করা রাজ্য পুলিশ ও বিজেপির নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সে ক্ষেত্রে পুলিশকে দিয়েই তো হিংসা ঠেকিয়ে দেওয়া সম্ভব। কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন পড়বে কেন?

এই প্রশ্নের উত্তরে সুকান্ত মজুমদার বলেন, প্রথমে বামফ্রন্ট, পরে তৃণমূল, পশ্চিমবঙ্গের পুলিশকে যে দল দাসত্বে অভ্যস্ত করে ফেলেছে তাতে বিজেপি জেতার পরে ভোট পরবর্তী হিংসা শুরু হলে পুলিশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এখনই সেই বিষয়ে পুলিশের উপর ভরসা রাখা যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখাই একমাত্র পথ। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য বলেছেন, সরকার বদলে যাবে। পুলিশ প্রশাসন বিজেপির নিয়ন্ত্রণে আসবে। সে কথা ঠিক। কিন্তু তৃণমূলের দলদাসে পরিণত হওয়া ওসি, আইসিরা রাতারাতি বদলে যাবে না এমনটা ধরে নেওয়া সম্ভব নয় বলেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকা দরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *