আমাদের ভারত, ১৭ এপ্রিল: নাসিকের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসে যৌন হেনস্থা ও ধর্মান্তকরণ কাণ্ডে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে কর্পোরেট জেহাদের অভিযোগে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে তদন্ত নেমেছে পুলিশ। এর মধ্যে শুক্রবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ জানিয়েছেন, টিসিএস কাণ্ডে তদন্ত করবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সির সাহায্য চেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দোষীদের একজন কেউ রেয়াত করা হবে না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা হবে।
ফড়নবিশ বলেন বিষয়টি গভীর উদ্বেগ জনক। এই চক্রান্তের শিকর উপরে ফেলতে গভীরে গিয়ে তদন্ত হবে বলেও জানান তিনি। দোষীদের কঠোরতম শাস্তির বিষয়টিও নিশ্চিত করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ধারণা এই ঘটনা বড়সড় ষড়যন্ত্রের অংশ। তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িত কেউ ছাড় পাবে না। কাউকে আড়াল করা হবে না। কেন্দ্রীয় সংস্থাকে বিষয়টি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে বলেছি।
যৌন নির্যাতন, মানসিক হেনস্থা এবং ধর্মান্তকরণের অভিযোগ উঠেছে আইটি সংস্থা টিসিএস- এর নাসিক কেন্দ্রে বেশ কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ করেছেন ওই সংস্থার কমপক্ষে ৯ জন মহিলা কর্মী। এই বিষয়ে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা গিরিশ মহাজনের দাবি, কোম্পানির চার পাঁচ জন মুসলিম কর্মী এবং কিছু কর্মকর্তা চাকরিতে ভালো বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়েদের প্রলুব্ধ করছিল। তিনি দাবি করেন, মহিলাদের নমাজ পড়তে ও রোজা রাখতে বাধ্য করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার নাসিকের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসের ধর্মান্তকরণ বিতর্ক সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। জনস্বার্থে মামলা হয়েছে আদালতে। ওই আবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি জেনে গোটা দেশ চমকে উঠেছে। এই ধরনের কাজ সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের আওতায় পড়ে। অবৈধ ধর্মান্তকরণ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিক কেন্দ্র ও রাজ্যগুলি।
এদিকে ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত এইচ আর কর্মী নিদা খান পলাতক। গ্রেফতারি আটকাতে আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন করেছেন তিনি। আইনজীবী মারফত ওই আবেদনে অন্তঃসত্তা হওয়ার কথা জানিয়ে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জামিনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

