সাথী দাস, আমাদের ভারত, পুরুলিয়া, ১২ এপ্রিল: ঝালদায় কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী নিরঞ্জন বৈষ্ণবের রহস্যজনক মৃত্যুর সিবিআই তদন্তের আবেদন মঞ্জুর করল কলকাতা হাইকোর্ট।
তপন কান্দুর খুনের তদন্তের পর এবার প্রত্যক্ষদর্শী নিরঞ্জন বৈষ্ণবের অস্বাভাবিক মৃত্যুর কিনারা করতে সিবিআইয়ের ওপরেই ভরসা রাখল উচ্চ আদালত। আদালতের এই আদেশে স্বস্তি দেখা গেল মৃতের পরিবারে।
এই বিষয়ে নিহত নিরঞ্জন বৈষ্ণবের বৌদি কবিতা বৈষ্ণব জানান, “১১ এপ্রিল মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে নিহত কাউন্সিলর তপন কান্দুর স্ত্রী পূর্ণিমা কান্দু ঘটনার প্রকৃত তদন্তের স্বার্থে আমার দেওরের আত্মহত্যার ঘটনার সিবিআই তদন্ত চেয়ে আবেদন করে। উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ দুষ্কৃতীর গুলিতে মৃত্যু হয় ঝালদা পৌরসভা ২ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দুর। এই ঘটনার দিন তপনবাবুর সাথেই ছিলেন নিরঞ্জন বৈষ্ণব। প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে নিয়মিত ডাক পড়ত ঝালদা থানায়। হঠাৎ গত ৬ এপ্রিল নিজের ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় নিরঞ্জনের। সাথে উদ্ধার হয় সুইসাইড নোট। অবাক হওয়ার বিষয় হল পাওয়া যায়নি নিরঞ্জনের মোবাইল ফোনটি। যেহেতু তপন কান্দু খুনের তদন্তের ভার পেয়েছে সিবিআই আর এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন নিরঞ্জন বৈষ্ণব। তাই, এই আত্মহত্যার সঠিক রহস্য জানতে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।
আজ শুনানি হয়। কলকাতা হাইকোর্ট আমাদের সিবিআই তদন্তের আবেদন মঞ্জুর করে।

এবিষয়ে জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাত বলেন, “নিরঞ্জন বৈষ্ণব তপন কান্দু খুনের একজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। তার হঠাৎ আত্মহত্যা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধে।তাছাড়া নিরঞ্জনের সুইসাইড নোটে পুলিশের কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই কোর্টে আবেদন করেছিলাম। আজ মহামান্য আদালত সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের মঞ্জুরি দিয়েছে। আমরা খুশি। সিবিআই তদন্তে আমরা আশাবাদী।”
নিহত কাউন্সিলরের স্ত্রী পূর্ণিমা কান্দু বলেন, “আমি স্বামী খুনের প্রত্যক্ষদর্শীর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে হতাশ হয়ে পড়ি। পুলিশ যেভাবে উনাকে হেনস্থা করেছিল তাতে সহ্য করতে পারেন নি তিনি। দুটি মৃত্যুই রহস্যজনক। এর পিছনে যারা আছে তারা সিবিআই তদন্তে সামনে আসবে।”

