স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১২ এপ্রিল: রায়গঞ্জের তেঁতুলতলায় নির্যাতিতা দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীর বাড়িতে গেলেন বিজেপি বিধায়কদের চার সদস্যের এক প্রতিনিধি দল।বিজেপির ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা রাজ্য সম্পাদক শঙ্কর ঘোষ, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চ্যাটার্জি, গাজলের বিধায়ক চিন্ময় দেব বর্মন এবং গঙ্গারামপুরের বিধায়ক সত্যেন্দ্র নাথ রায়। নির্যাতিতা ছাত্রীর পরিবারের সাথে কথা বলার পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন তাঁরা।
এদিকে গত পরশুর ঘটনার পর গতকাল সোমবার অভিযুক্ত যুবক মোজাফফর আলিকে গ্রেফতার করে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। আজ মঙ্গলবার ধৃতকে রায়গঞ্জ আদালতে তোলা হলে আদালত ধৃতকে ১৬ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিবারসূত্র জানা যায়, রায়গঞ্জ থানার তেঁতুলতলার বাসিন্দা হারুন রসিদ পেশায়ল শ্রমিকের কাজ করে৷ রসিদের মেয়ে স্থানীয় তেতুলতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। গতকাল বিকেলে ওই গ্রামের যুবক মোজাফফর আলি ওই ছাত্রীকে বিস্কুট দিতে চাইলে ওই ছাত্রী নিতে নারাজ ছিল। তখন অভিযুক্ত ওই যুবক ওই ছাত্রীকে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। ওই ছাত্রী বাড়ি গিয়ে গোটা ঘটনাটি তার মাকে জানায়। এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপার চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর তারা রায়গঞ্জ থানায় ছুটে যায়। ওই ছাত্রীকে চিকিৎসার জন্য রায়গঞ্জ জেলা গর্ভামেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে রায়গঞ্জ থানার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় ওই যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সোমবার রাতেই অভিযুক্ত মোজাফফর আলিকে গ্রেফতার করে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। পক্সো মামলায় আজ মঙ্গলবার ধৃতকে রায়গঞ্জ আদালতে তোলা হয়েছে। আদালত ধৃত মোজাফফর আলির ১৬ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার নির্যাতিতা ছাত্রীর তেঁতুলতলার বাড়িতে আসেন বিজেপি বিধায়কদের এক প্রতিনিধি দল। বিজেপি বিধায়কদের ওই প্রতিনিধি দলের সদস্যা ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ক শিখা চ্যাটার্জি বলেন, রাজ্যে একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী অথচ এরাজ্যের মহিলা ও শিশুদের ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। রায়গঞ্জের তেঁতুলতলা গ্রামের নির্যাতিতা দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ৮ বছরের বালিকাকে ধর্ষণের পর তার শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকা সত্বেও হাসপাতাল থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হল কেন সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিধায়কদের এই প্রতিনিধি দল রায়গঞ্জের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।

