ঝালদার নিহত কংগ্রেস কাউন্সিলরের স্ত্রী পূর্ণিমার অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তৃণমূল নেতাদের জেরা সিবিআইয়ের

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৯ এপ্রিল: ঝালদার নিহত কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দুর স্ত্রী পূর্ণিমার অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তৃণমূল নেতাদের জেরা করল সিবিআই। আজ দিনভর ঝালদায় কংগ্রেস কাউন্সিলর খুনে সিবিআইয়ের জেরার মুখে পড়েন তৃণমূল নেতা শ্যাম কান্দু ও ভীম তেওয়ারি, জেলা তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক তথা প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রদীপ কর্মকার, সদ্য দলে যোগ দেওয়া কাউন্সিলর ও তাঁর স্বামী।

তপন কান্দু খুনের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী পূর্ণিমা কান্দুর অভিযোগ পত্রে নাম থাকা ঝালদা পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন কো-অর্ডিনেটর তথা তৃণমূল নেতা শ্যাম কান্দু ও ভীম তেওয়ারিকে ঝালদার অস্থায়ী সিবিআই ক্যাম্পে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিবিআই। আজ দুপুরে নির্দেশ মতো তারা অস্থায়ী সিবিআই ক্যাম্পে হাজির হন। সেখানে প্রায় আধ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসাররা।

জিজ্ঞাসাবাদের পর বাইরে এসে শ্যাম কান্দু জানান, “আজ আমাদের ডাকা হয়েছিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। আমাদের কাছ থেকে যা যা জানতে চেয়েছে সিবিআই আমরা তা জানিয়েছি। আমরা নির্দোষ।”

বিকেলে সিবিআইয়ের তলবে ঝালদার অস্থায়ী ক্যাম্পে হাজির হন ঝালদা পৌরসভার প্রাক্তন পৌরপ্রধান তথা জেলা তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কর্মকার। তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেন সিবিআইয়ের তদন্তকারিরা। এর আগে পুরুলিয়ায় পুলিশের অতিথি আবাসে সিটের জেরার মুখে পড়তে হয়েছিল তৃণমূলের এই নেতাকে।

পরের দিকে ডাকা হয় আসিক খানের বন্ধু দন্ত চিকিৎসক লাক্ষা সিংকে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে পূর্ণিমা কান্দুর ছেলে দেব কান্দু ও নরেন কান্দুর প্রথম পক্ষের দুই ছেলে সনু ও মনু কান্দুকে সিবিআই তাদের অস্থায়ী ক্যাম্পে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পর্যায়ক্রমে ডাকা হয় মৃত নিরঞ্জন বৈষ্ণবের বন্ধু সঞ্জিত সূত্রধরকে। এছাড়া ঝালদা পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল প্রার্থী থেকে জয়ী হয়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া শীলা চ্যাটার্জি ও তাঁর স্বামী কালিপদ চ্যাটার্জিকে।

সিবিআই ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে শীলা জানান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার জন্য কে বা কারা বলেছেন? এতে আইসি সঞ্জীব ঘোষের ভূমিকা কী ছিল? কী কারণে নির্দল থেকে তিনি যোগ দিয়েছেন? এই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় তৃণমূলের বোর্ড গঠনের নির্ণায়ক ভূমিকা নেওয়া এই কাউন্সিলরকে। যদিও সিবিআই তাঁর কাছ থেকে সন্তোষজনক উত্তর
পায়নি বলে জানা গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *