Case, Mahua Moitra, TMC, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর আদালতে মামলা

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৭
মে: তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে এবার কৃষ্ণনগর আদালতে মামলা দায়ের হলো। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙেছেন এবং দেশবাসীর জাতীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। বুধবার ভীমপুর থানার কুলগাছির বাসিন্দা গৌরাঙ্গ দে এই মামলাটি দায়ের করেন।

অভিযোগের মূল উৎস গত এপ্রিল মাসে সাংবাদিক বরখা দত্তকে দেওয়া মহুয়া মৈত্রের একটি সাক্ষাৎকার। মামলাকারীর দাবি, ২০১৫ সালের ৭মে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই সেনা অভিযানকে মহুয়া মৈত্র ‘সো-কলড’ বা তথাাকথিত অপারেশন বলে ব্যঙ্গ করেছেন। পাশাপাশি ওই অভিযানের বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য নেই বলেও দাবি করেন তিনি। প্রমাণ হিসেবে মহুয়ার সেই সাক্ষাৎকারের একাধিক ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক লিঙ্ক আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। মামলাকারীর স্পষ্ট বক্তব্য, মহুয়ার এই মন্তব্য সম্পূর্ণ ভারত-বিরোধী এবং এর ফলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মনোবল চাঙ্গা হবে।

এই প্রসঙ্গে মামলাকারীর আইনজীবী বিশ্বদেব টামটা জানান, কোনো সাংসদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে আলাদা কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয় না। এছাড়া সংবিধানের ১০৫ (২) অনুচ্ছেদে সাংসদদের যে বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া আছে, তা সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

নদীয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির কনভেনার সন্দীপ মজুমদার সাংসদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, মহুয়া মৈত্র আগাগোড়াই দেশ বিরোধী। টাকার ও উপহারের বিনিময়ে সংসদের পাসওয়ার্ড বিদেশি সংস্থার কাছে বিক্রি করা থেকে শুরু করে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য— সবই অপরাধের শামিল। তাঁর মতে, এমন মানুষের দেশের স্বার্থেই জেলে থাকা উচিত।

একই সুর শোনা গেছে নাকাশিপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা অনুপ কুমার মন্ডলের গলাতেও। তিনি মামলাকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মা কালীকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করা বা টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন কেলেঙ্কারির পর এই মামলা আরও আগেই হওয়া উচিত ছিল। দেশের সীমান্ত রক্ষা করা সৈনিকদের নিয়ে এমন মন্তব্য অত্যন্ত ধিক্কারজনক এবং তাঁরা আশা করছেন আদালত এই বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

এই পুরো ঘটনার বিষয়ে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের প্রতিক্রিয়া জানার জন্য তাঁর ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও, কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *