আমাদের ভারত, বীরভূম, ৬ অক্টোবর: প্রধান গঠনকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তপ্ত রইল বীরভূমের তারাপীঠ থানার বুধিগ্রাম। পুলিশের উপস্থিতে চলল বোমাবাজি। পুলিশ বোমাবাজি এবং অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে দু’জনকে আটক করেছে।
বীরভূমের রামপুরহাট ২ নম্বর ব্লকের বুধিগ্রাম অঞ্চলের সদস্য সংখ্যা ২৪ জন। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল ১৫টি আসনে জিতে পঞ্চায়েত দখল করে। বিরোধী আসনে বসে ৫ জন বিজেপি এবং ৪ জন নির্দল সদস্য। প্রধান হন মৌসুমি সাহা। সরকার বদল হতেই বিজেপির ৯ জন সদস্য প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনে। তাদের সঙ্গে অনাস্থায় স্বাক্ষর করে ৪ নির্দল এবং ২ বিজেপি সদস্য। পুলিশ দুবার নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অনাস্থার ভোটাভুটি বাতিল করে। তৃতীয়বার অনাস্থা ভোটাভুটিতে পদ খোয়ান প্রধান মৌসুমি সাহা। এরপর প্রধান নির্বাচনও একই কারণ দেখিয়ে বাতিল করে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন হয়।

এদিন সকাল থেকেই এলাকায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ে অনাস্থায় স্বাক্ষরকারী ১৫ জন সদস্য পঞ্চায়েতে উপস্থিত থাকলেও বাকিরা ছিলেন অনুপস্থিত। ফলে একতরফা ভাবে প্রধান নির্বাচনের ভোটাভুটিতে প্রধান নির্বাচিত হন নির্দলের চাঁদ সুলতানা। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশ বিশৃঙ্খলা আটকাতে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। এরপরেই শুরু হয় বোমাবাজি। নব নির্বাচিত প্রধানের স্বামী জিন্নার আলির দাবি, বিদায়ী প্রধানের স্বামী সুজিত সাহার লোকজন বোমাবাজি করেছে।
বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য বাসুদেব মণ্ডল বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাভুটি হোক। কিন্তু সিপিএম এবং তৃণমূলের হার্মাদ বাহিনী বোমাবাজি করে এলাকায় অশান্তির সৃষ্টি করে। ফলে আমাদের সদস্যরা ঢুকতে পারেনি।”
বিজেপির জেলা সহ সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তারাপীঠ থানার পুলিশ চেয়ারে বসে তৃণমূলের পক্ষে কাজ করছেন। এর আগেও তার বিরুদ্ধে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছি। তারাপীঠ থানার পুলিশ আমাদের কর্মী সমর্থকদের উপর অন্যায়ভাবে লাঠিচার্জ করেছেন। ফলে আমাদের সদস্যরা পঞ্চায়েতে ঢুকতে পারেনি।”
প্রধানের স্বামী জিন্নার আলি বলেন, “২০২১ সাল থেকে আমরা বিজেপি করছি। ওই বছরেই তারাপীঠের বেসিক মোড়ে চাঁদ সুলতানা বর্তমান রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহার হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করেছিল। কিন্তু আমার এলাকা মুসলিম অধ্যুষিত হওয়ায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির সমর্থনে নির্দল থেকে স্ত্রীকে দাঁড় করিয়েছিলাম। বিজেপির জেলা নেতৃত্বের অনুমতি নিয়েই অনাস্থা এনেছিলাম। তাদের সমর্থনেই স্ত্রী প্রধান হয়েছে।”

