বিজেপি কর্মীর বাড়ি লক্ষ্য করে পর পর বোমা, টিটাগড়ে আক্রান্তের বাড়িতে অর্জুন সিং

প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর, ৫ সেপ্টেম্বর:
ফের বোমাবাজির ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠলো ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল। বিজেপি কর্মী সুরেশ সাউ এর বাড়ি লক্ষ্য করে পরপর তিনটি বোমা মারার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল টিটাগড়ের অন্নপূর্ণা দেবী রোডে। এই ঘটনায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপি কর্মীর আত্মীয়রা। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে দুষ্কৃতী তাণ্ডব প্রসঙ্গে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং।

টিটাগড় থানার থেকে ঢিল ছোট ছোড়া দূরত্বে এই বোমাবাজির ঘটনা ঘটায় যথেষ্ট আতঙ্কিত হয়ে পরেছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ, অন্নপূর্ণা দেবী রোডে বিজেপি কর্মী সুরেশ সাউ বাড়িতে রবিবার ভোরবেলায় দুটি বাইকে চড়ে চারজন দুষ্কৃতী আসে। তারা বিজেপি কর্মী সুরেশ সাউ এর বাড়ি লক্ষ্য করে পর পর তিনটি বোম মারে। সেই সময় বিজেপি কর্মী ও তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য বাড়ির বাইরে ছিলেন। আর কেউ বাড়িতে না থাকায় অল্পের জন্য বেঁচে যান সুরেশবাবু ও তার পরিবারের সদস্যরা।

তবে টিটাগড় থানা থেকে সামান্য দূরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে এরকম ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চরম আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয়রা। সুরেশ সাউ এর বাড়িতে একটি বিজেপি কার্যালয় গড়ে উঠেছিল বিধানসভা ভোটের সময়। ওই কার্যালয় থেকে বিজেপির কাজকর্ম হত। এদিন অন্যান্য বিজেপি কর্মীরা বলেন, ” সুরেশ সাউ নিহতত বিজেপি নেতা মনীশ শুক্লার ছোট বেলার বন্ধু। তাই মনীশ শুক্লার বাবা চন্দ্র মণি শুক্লা ভোটে দাড়ালে তার হয়ে প্রচারও করে ছিলেন রমেশ সাউ। যেহেতু আমরা বিজেপি করি, সুরেশবাবুও বিজেপি করেন সেই জন্য তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই হামলা করেছে বলে মনে করছি আমরা। আর চার জন দুষ্কৃতী এসেছিল আর থানার এক পুলিশ কর্মী ওই দুষ্কৃতীদের বাধা দিতে আসলে তাকে অগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো হয়, পুলিশ কর্মীকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়।
তবে সিসিটিভি আছে এই রাস্তায়, পুলিশ সেটা দেখে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করতে পারবে।”

এই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে টিটাগড় থানার পুলিশ। এদিন দুপুরে ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং সুরেশ সাউ এর বাড়ি ঘুরে দেখে বলেন, থানার নিরাপত্তা নিয়ে চোরের মত বোম মারছে তৃণমূল। প্রকাশ্যে এসে লড়াই করুক। ওরা টিটাগড় থেকে নির্বাচনে কাউকে লড়াই করতে দেবে না। এখানে আইনের শাসন নেই, এরা সিট মানবে না, সিবিআই মানবে না, শুধু মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করবে। বিজেপি কর্মীরা আর সাধারণ মানুষ এবার এর প্রতিবাদ করবে। রাজ চক্রবর্তী ও পৌর প্রশাসক উত্তম দাসের মধ্যে গণ্ডগোল বাঁধছে আর নাম দিচ্ছে দুষ্কৃতীদের। ব্যারাকপুর এখন তোলাবাজদের জায়গা হয়ে গেছে।” যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টিটাগড়ের পৌর প্রশাসক প্রশান্ত চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *