সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৮ জুন: বনগাঁ আদালতের পিছনের অংশে গাঁজা গাছ জন্মানোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আদালত চত্বরের পিছনের এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ চলছিল এবং সেখানে গাঁজা সেবনের ফলে পড়ে থাকা বীজ থেকে একাধিক গাঁজা গাছ জন্মায়।
বিজেপি নেতাদের দাবি, বনগাঁ পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর মৌসুমী চক্রবর্তীর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু সমাজবিরোধী যুবক মাদক ও গাঁজা সেবনের সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ, আদালত বন্ধ হওয়ার পর কয়েকজন যুবক বিভিন্ন দিক দিয়ে আদালত চত্বরে প্রবেশ করে সেখানে গাঁজা সেবন করত। সেই সময় ফেলে যাওয়া বীজ থেকেই এলাকায় গাঁজা গাছ জন্মায়। শনিবার বিজেপির তপশিলি মোর্চার বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শোভন বৈদ্য এবং মণ্ডল সভাপতি সমরেশ মণ্ডলের নেতৃত্বে দলের কর্মী- সমর্থকরা আদালত চত্বরে স্বচ্ছ ভারত অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের অংশ হিসেবে সেখানে জন্মানো গাঁজা গাছগুলি কেটে ফেলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়। বিজেপির অভিযোগ, কিছু তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতী ওই এলাকায় নিয়মিত মাদক সেবন এবং বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ চালাতো। এর ফলে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হচ্ছিল।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সমাজকে মাদকমুক্ত করতে এবং যুবসমাজকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতেই তারা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
শোভন বৈদ্য বলেন, “আদালত চত্বরে গাঁজা গাছ জন্মানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা। মাদকাসক্তি ও অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। স্বচ্ছ ভারত অভিযানের মাধ্যমে আমরা এই গাঁজা গাছগুলি অপসারণ করেছি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকব।”
যদিও বিজেপির এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, আদালত ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা এবং নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

