সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৯ জুন: অশোকনগরের পরিচিত তৃণমূল নেতা প্রবীর মজুমদার ওরফে ‘গুপী’-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত প্রবীরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নতুন করে সামনে আসতে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে অশোকনগরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘটনায় অভিযুক্তকে রক্ষা করতে নির্যাতিতার পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রবীর মজুমদারের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এরপরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। জানা গিয়েছে, বর্তমানে প্রবীর মজুমদার হাবড়া ২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন। তিনি নিজেকে অশোকনগরের প্রাক্তন বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামীর ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচয় দিতেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৫ এপ্রিল। অভিযোগ, স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে এক ৬ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ করে স্থানীয় এক মুদি দোকানি। বাড়ি ফিরে শিশুটি পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার কথা জানালে তারা অশোকনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যান। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, প্রথমদিকে পুলিশ অভিযোগ নিতে গড়িমসি করে। সেই সময় থানায় উপস্থিত ছিলেন প্রবীর মজুমদার। পরিবারের অভিযোগ, তিনি বিষয়টি টাকার বিনিময়ে মিটিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দেন। তাতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।
স্থানীয় মহলের একাংশের দাবি, তৃণমূলের শাসনকালে প্রবীর মজুমদারের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া, প্রভাব খাটানো, মারধর এবং বিভিন্ন ধরনের দাদাগিরির অভিযোগ একাধিকবার উঠেছে। যদিও অতীতে ওঠা সমস্ত অভিযোগ তিনি বরাবরই অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার ধৃত তৃণমূল নেতাকে বারাসত আদালতে তোলা হয়। তবে তাঁর গ্রেফতারির বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিস্তারিত মন্তব্য করেনি পুলিশ। অন্যদিকে, এই ঘটনায় তৃণমূল নেতৃত্বও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চায়নি।

